ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৩, ১০:৫৯ এএম
আজ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিব। বাঙালি জাতির শোকের ও গৌরবের দিন। রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ঐতিহাসিক এই দিবসটি শুধু বাঙালির নয়, পৃথিবীর সব ভাষাভাষী মানুষের।
১৯৫২ সালের এ দিন ঢাকার রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেন রফিক-সালাম-বরকতরা। তাদের ত্যাগের বিনিময়েই ১৯৫৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি উর্দুর সঙ্গে বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করতে বাধ্য হয় তৎকালীন পাকিস্তানি সরকার। কালক্রমে এদিনই হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
একেুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাত ১২টায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমন পরিস্থিতির কারণে দুই বছর পর সশরীরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় অমর একুশের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বাজানো হয়। শহীদবেদিতে ফুল দিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে দ্বিতীয়বার শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা।আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এরপর ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, বিরোধী দলের নেতার পক্ষে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।মন্ত্রিপরিষদ সদসস্যসহ বিশিষ্ট নাগরিকরা পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা জানান।
শ্রদ্ধা জানান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, বিমান বাহিনীর প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান ও নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল শাহিদ ইকবাল।।
শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল নাজমুল হাসান। র্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, চিফ হুইপের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন হুইপ ইকবালুর রহীম।
এরপর বাংলাদেশে অবস্থিত কূটনৈতিক মিশনের প্রধানবৃন্দ, রাষ্ট্রদূত এবং হাইকমিশনাররা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) কোষাধ্যক্ষ, অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ এবং সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তাদের শ্রদ্ধা জানানো শেষ হলে জনসাধারণের জন্য শহীদ মিনার খুলে দেওয়া হয়। পরে একে একে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানায়। এসময় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঢল নামে সর্বস্তরের মানুষের।