শনিবার ১ অক্টোবর ২০২২
      Beta
শেখা রেহানা: রাজনীতির প্রতি নির্মোহ এই মানুষটি সর্বদা আড়াল থেকেই দিচ্ছেন তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয়।

একজন নিভৃতচারী শেখ রেহানা

The Report শবনম শারমিন
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৫:৩৭:০০ অপরাহ্ন | স্মরণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহানা যিনি ‘ছোট আপা‘  হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কাছে পরিচিত। বাংলাদেশের সবচে বড় রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হয়েও কখনও সরাসরি রাজনীতিতে আসেননি তিনি। 

তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উৎসাহ, অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা দিয়ে চলেছেন শেখ রেহানা। 

১৯৭৫ এর নৃশংস বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার চেয়ে বিশ্ব দরবোরে প্রথম আবেদন জানানো হয় ১৯৭৯ সালের ১০ মে। সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের সেই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনার পক্ষে শেখ রেহানাই প্রথম বিষয়টি উপস্থাপন করেন। সম্মেলনের প্রধান অতিথি শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তার পাঠানো বাণী পাঠ করেন শেখ রেহানা। আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে তিনিই সর্বপ্রথম ১৯৭৫-এর কলঙ্কজনক ও বর্বর হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি তোলেন। 

সেদিন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের প্রধানদের কাছে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যার বিচারের প্রশ্নে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা। 

১৯৮০ সালের ১৬ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা তদন্তে আন্তর্জাতিক কমিশন গঠন করা হয়। সর্ব ইউরোপীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠনে শেখ রেহানা অন্যতম মূখ্য ভূমিকা রাখলেও আড়ালেই থাকে তিনি। এখনও তিনি আড়ালে থেকেই বড় বোন শেখ হাসিনার পাশাপাশি সবক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

মা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পর্দার অন্তরালে থেকে বঙ্গবন্ধুকে দিয়েছিলেন সাহস ও অনুপ্রেরণা। যার অনুপ্রেরণায় শেখ মুজিব হতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি জাতির পিতা। আর এখন পর্দার অন্তরালে বড় বোন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাশে থেকে অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন যিনি; তিনি হলেন শেখ রেহানা । 

বড় বোন শেখ হাসিনার সঙ্গে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বাড়িটি স্মৃতি জাদুঘর করে দেশের জনগণের জন্য উৎসর্গ করে দিয়েছেন শেখ রেহানা। একইভাবে ধানমন্ডিতে তাঁর নামে বরাদ্দ বাড়িটিও দান করে দিয়েছেন দেশের কাজে। 

শেখ রেহানার তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, বড় মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক এবং ছোট মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী। স্বামী অধ্যাপক ড. শফিক আহমেদ সিদ্দিক। বড় মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ পার্লামেন্টে লেবার পার্টির একজন এমপি। ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত এবং আওয়ামী লীগের গবেষণা উইং সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) ট্রাস্ট্রি। আর সবার ছোট আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী লন্ডনে ‘কন্ট্রোল রিস্কস’নামে একটি প্রতিষ্ঠানের গ্লোবাল রিস্ক অ্যানালাইসিস সম্পাদক।

জাতির পিতার কন্যা হয়েও জীবনটা তার জন্য সহজ হয় নি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর দুর্বিষহ জীবন কাটিয়েছেন তবুও হতাশ হননি। রাজনীতি সচেতন শেখ রেহানা সর্বদা আড়াল থেকেই দিচ্ছেন তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয়।

আজ ৬৭তম জন্মবার্ষিকী শেখ রেহানার।