শনিবার ১ অক্টোবর ২০২২
      Beta

ফাইনালে দুই গোল দেওয়া কৃষ্ণার গ্রামে চলছে জয়োৎসব

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৫:১০:০০ অপরাহ্ন | খেলাধুলা

নেপালে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথমবার শিরোপা জিতল বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা। হিমালয় জয় করার মতোই ছিল এই টুর্নামেন্ট। নানা বাধাবিপত্তি পেরিয়ে বাংলাদেশের অদম্য মেয়েরা ইতিহাস গড়া ওই জয় ছিনিয়ে এনেছে শক্তিশালী নেপালের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে গতকাল থেকে আনন্দে ভাসছে সারাদেশ। আনন্দে আত্মহারা ফাইনালে দুই গোল দেওয়া স্ট্রাইকার কৃষ্ণা রানী সরকারের গ্রামের বাসিন্দারাও। 

সোমবার কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে জোড়া গোল করা বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড কৃষ্ণা রানী সরকার টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামের বাসুদেব চন্দ্র দাস ও নমিতা রানী দাস দম্পত্তির মেয়ে।

কৃষ্ণার গ্রামে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় গোটা গ্রামজুড়ে জয়োল্লাস চলছে। ছোট-বড় সবার মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। নিভৃত পল্লী গ্রামের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফাইনাল খেলার খবর। সবাই গর্ব করে বলে বেড়াচ্ছেন, তিন গোলের মধ্যে ২ গোলই করেছে আমাদের কৃষ্ণা।

নানা প্রতিকূলতা-প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে অবিচল লক্ষ্য, অদম্য মনোবল, প্রবল ইচ্ছা ও দৃঢ়সংকল্পকে সঙ্গী করে কৃষ্ণা রানী পারি দিয়েছে স্বপ্নপূরণের পথ।

তবে বাড়িতে লোডশেডিং থাকায় কৃষ্ণার মা নমিতা রানী সরকার মেয়ের সেই খেলা দেখতে পারেননি। বাবা খেলা দেখেছেন অন্য গ্রামে গিয়ে। বোনের ভালো খেলার জন্য ভাই পলাশ সরকার সারা দিন উপবাসব্রত পালন করেছে।

কৃষ্ণার মা নমিতা রানী সরকার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় খেলা দেখতে পারিনি। খেলা শেষে ছেলের মোবাইল ফোনে জয়ের কথা জানতে পারি। খুবই আনন্দিত আমি। আমার মেয়ের ফুটবল খেলা নিয়ে যারা একসময় আপত্তি করত, আজেবাজে কথা বলত, তাঁরাই এখন অভিনন্দন জানাতে বাড়ি আসছেন। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।

কৃষ্ণার বাবা বাসুদেব সরকার বললেন, বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় পাশের গ্রামে গিয়ে খেলা দেখেছি। এরকম জয়ে দারুণ খুশি হয়েছি। এলাকার মানুষও খেলা উপভোগ করেছে। অনেকেই আনন্দে শুভেচ্ছা জানাতে বাড়ি আসছে।

পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মাজহারুল ইসলাম জানান, এখানে বিদ্যুতের ইউনিট কম পাওয়া যায়। তাই মাঝে মাঝে এলাকাভিত্তিক সংযোগ বন্ধ রাখতে হয়। সে কারণে হয়তো ওই এলাকায় খেলার সময় বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ মল্লিক বলেন, কৃষ্ণা এখন বাংলাদেশেরই গর্ব। বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তার উত্থান শুরু। দেশে ফেরার পর আমরা তাঁকে স্থানীয়ভাবেও সংবর্ধনা দেব। কৃষ্ণার মাকে রত্মগর্ভা সম্মাননা দিয়েছি।