এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১০:৪০ এএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি চুক্তির ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে তেলের দামে বড় পতন হয়েছে এবং বিশ্ব শেয়ারবাজারেও ফিরেছে আস্থা—জানিয়েছে বিবিসি।
উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে এই চুক্তি কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে। বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৫.৯% কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২.৩০ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দামও প্রায় ১৬.৫% কমে দাঁড়িয়েছে ৯৩.৮০ ডলারে।
তবে সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় দাম এখনও বেশি রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার।
মধ্যপ্রাচ্যে তেল ও গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। এর আগে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে বোমা হামলা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন। এর শর্ত হিসেবে তিনি বলেন, ইরানকে অবিলম্বে এবং নিরাপদভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে।
এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে “একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।”
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ইরানের ওপর হামলা বন্ধ হলে তেহরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা হবে।
এই যুদ্ধবিরতির ফলে প্রণালির কাছে আটকে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলো আবার চলাচল শুরু করতে পারবে, যা বাজারে স্বস্তি ফেরাতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্থায়ী শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার সম্ভাবনা কম।