ছবি : সংগৃহীত
ভারতে গরুকে ‘জাতীয় পশু’ ঘোষণার দাবি জানিয়ে এবার সরব হয়েছে দেশটির কয়েকটি প্রভাবশালী মুসলিম সংগঠন। সাধারণত হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী ও বিজেপির পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে এ দাবি উঠলেও এবার মুসলিম নেতাদের একই আহ্বান নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা তৈরি করেছে।
বর্তমানে ভারতের জাতীয় পশু রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। তবে মুসলিম সংগঠনগুলোর দাবি, গরুকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিলে গো-হত্যা ও গো-রক্ষা ঘিরে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে যে বৈষম্য ও সহিংসতা দেখা যায়, তা কমানো সম্ভব হবে।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামায়াতের সভাপতি মাওলানা শাহাবুদ্দিন রাজভি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে যৌথ স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এজন্য দিল্লিতে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মুসলিম নেতাদের ভাষ্য, গো-রক্ষার নামে বিভিন্ন স্থানে মুসলিমদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে। একক জাতীয় আইন থাকলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। অল ইন্ডিয়া শিয়া পার্সোনাল ল বোর্ডের মাওলানা ইয়াসুব আব্বাস বলেন, গো-রক্ষার বিষয়ে সব রাজ্যে একই নীতি থাকা প্রয়োজন।
জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের একাংশের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি জানান, তিনি আগেও গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পাশাপাশি গরু জবাই ও অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর আইনের দাবিও জানান তিনি।
এদিকে বিষয়টি ঘিরে বিজেপির নীতিরও সমালোচনা করছেন অনেকে। বিরোধী দল ও মুসলিম নেতাদের অভিযোগ, উত্তর ভারতের কয়েকটি রাজ্যে গো-হত্যা নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হলেও গোয়া ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু রাজ্যে একই বিষয়ে তুলনামূলক শিথিলতা দেখা যায়।
সমালোচকদের দাবি, একদিকে গো-রক্ষার রাজনীতি, অন্যদিকে ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় গরুর মাংস রপ্তানিকারক দেশ এ দুই অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের দ্বন্দ্ব রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঈদুল আজহার আগে এ ধরনের দাবি সামনে আসায় বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে এবং সামনের দিনগুলোতে ভারতীয় রাজনীতিতে এটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।