এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
রাতভর তীব্র উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এ খবরে বৈশ্বিক তেলের বাজারে ইতোমধ্যে মূল্য কমার প্রবণতা দেখা গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি “সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে” খুলে দিলেই এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
এই সমঝোতায় মধ্যস্থতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ।
যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলতে সম্মত হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন, যার ফলে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা।
এক বিবৃতিতে শাহবাজ শরীফ বলেন, “আমি ঘোষণা করছি যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা—লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে—তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।”
তিনি উভয় পক্ষের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুই দেশ যে বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা দেখিয়েছে, তা শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি।
এদিকে, বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে আরেক দফা আলোচনার ডাক দিয়েছে পাকিস্তান। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শরীফ আশা প্রকাশ করেন, এই বৈঠক দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ সুগম করবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বিশেষ প্রস্তাব এবং ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতেই এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই প্রস্তাব ভবিষ্যৎ আলোচনার একটি কার্যকর ভিত্তি হতে পারে।
অন্যদিকে, ইরান সরকার ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই সমঝোতাকে নিজেদের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধে ইরান তাদের অধিকাংশ লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং প্রতিপক্ষ ‘ঐতিহাসিক ব্যর্থতার’ মুখে পড়েছে।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর ইরানের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নেমে আনন্দ মিছিল করতে দেখা গেছে।