মিয়ানমারের সাবেক জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

মিয়ানমারের সাবেক জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত

মিন অং হ্লাইং | ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের সাবেক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আল জাজিরা।

অং সান সূচির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের পর মিন অং হ্লাইং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এক বছরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করে দেশকে বেসামরিক শাসনে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তবে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তার সময় লেগেছে পাঁচ বছর।

সংবিধান অনুযায়ী, মিন অং হ্লাইং সেনাপ্রধানের পদ ছাড়লেও বিশ্লেষকদের মতে, এটি কার্যত নামমাত্র বেসামরিক শাসন। নতুন সংসদে তার অনুগতদের আধিপত্য বজায় রয়েছে এবং সেনাবাহিনীর জন্য নির্ধারিত আসনও বহাল আছে।

এদিকে তিনি একটি নতুন পরামর্শদাতা পরিষদ গঠন করেছেন, যার হাতে বেসামরিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক পোশাক ত্যাগ করলেও ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিন অং হ্লাইং।

গত নির্বাচনে অং সান সূচির দল বড় জয় পাওয়ার পরই ক্ষমতা দখল করেন মিন অং হ্লাইং। এরপর বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা ব্যবহারের ফলে দেশজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে, যা গৃহযুদ্ধের রূপ নেয়।

গত পাঁচ বছরে এই সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সঙ্গে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির অর্থনীতি। দেশের বড় একটি অংশ এখনো বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী বিমান হামলা ও কঠোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

কিয়াও উইনের মতো তরুণ আন্দোলনকারীদের জন্য পরিবর্তনের আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। ২০২২ সালের অভ্যুত্থানবিরোধী এক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জেলে পাঠানোর আগে এক সপ্তাহ ধরে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। সম্প্রতি তিনি মুক্তি পেয়েছেন।

তিনি বলেন, তারা লোহার রড দিয়ে আমার পিঠে মেরেছে। সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়েছে, ছুরি দিয়ে আমার উরুতে আঘাত করেছে। তারপর তারা আমার অন্তর্বাস খুলে নিয়ে আমাকে যৌন নির্যাতন করেছে। তারা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, কিন্তু তারা যে আমার কাছ থেকে কী শুনতে চায় তা কখনোই স্পষ্ট ছিল না।

কিয়াও উইন বলেন, বিপ্লবের প্রতি তার অঙ্গীকার এখনও অটুট রয়েছে, তবে বর্তমানে দেশের ভেতর থেকে তেমন কিছু করতে পারছেন না। তিনি দেশের বাইরে কাজ খোঁজার কথাও ভাবছেন।

এদিকে মিন অং হ্লাইং নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেনারেল ইয়ে উইন ও-কে নিয়োগ দিয়েছেন, যা তার সামরিক প্রভাব অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, বর্তমানে মিয়ানমারে ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষ মানবিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে এবং প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

Link copied!