বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযান আরও জোরদারের ইঙ্গিত দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ফলে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে হঠাৎ করেই নিচে নেমে এসেছে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশের বেশি কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬২২ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে ৪ শতাংশের বেশি পতনের পর টানা চার দিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাও থেমে গেছে। একই সময়ে মার্কিন গোল্ড ফিউচার ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৪৯ ডলারে নেমেছে।

এর আগে প্রাইম-টাইম ভাষণে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরও আগ্রাসী হামলা চালাবে এবং এই সংঘাতে তাদের প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে যুদ্ধবিরতির আশায় থাকা বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়েছেন।

ক্যাপিটাল ডট কমের সিনিয়র বিশ্লেষক কাইল রড্ডা বলেন, ‘ট্রাম্পের ভাষণ এবং সপ্তাহান্তে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কার সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের দামে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এতে তেলের দাম, মার্কিন ডলার এবং সুদের হার বেড়ে গেছে, যা স্বাভাবিকভাবেই স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি করেছে।’

এদিকে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড এবং ডলার সূচক বাড়ায় ডলার-নির্ভর স্বর্ণ আরও চাপে পড়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ইঙ্গিত দেওয়ার পর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান সংঘাত শুরুর পর মার্চ মাসে স্বর্ণের দাম ১১ শতাংশ কমেছে, যা ২০০৮ সালের পর সবচেয়ে বড় মাসিক পতন। তেলের দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা আবারও জোরালো হয়েছে, যা ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি আরও জটিল করে তুলছে।

বর্তমানে ২০২৬ সালের বেশিরভাগ সময়জুড়েই যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমার সম্ভাবনা কম দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের আগে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ২৫ শতাংশ থাকলেও এখন তা কমে ১২ শতাংশে নেমে এসেছে।

সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় স্বর্ণের দাম বাড়ে। তবে উচ্চ সুদের হার এই অনুৎপাদনশীল সম্পদ ধরে রাখার খরচ বাড়িয়ে দিয়ে এর আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।

এদিকে টানা দুই মাস পর প্রথমবারের মতো ভারতে স্বর্ণ প্রিমিয়ামে লেনদেন হয়েছে, কারণ দাম কমায় চাহিদা বেড়েছে। অন্যদিকে চীনে প্রিমিয়াম কিছুটা কমেছে, কারণ ক্রেতারা আরও কম দামের অপেক্ষায় রয়েছেন।

বিশ্ববাজারে দাম কমার প্রভাবে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমতে পারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের পতন হলে এর প্রভাব দেশীয় বাজারেও পড়ে, ফলে শিগগিরই দাম সমন্বয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে, সর্বশেষ ১ এপ্রিল সকালে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশে স্বর্ণের দাম বাড়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়ানো হয় এবং সকাল ১০টা থেকে নতুন দর কার্যকর হয়।

বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য ধাতুর দামও কমেছে। স্পট সিলভারের দাম ৭ শতাংশের বেশি কমে ৭১ দশমিক ৭ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯০২ দশমিক ৬৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৪৬ দশমিক ৫৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

Link copied!