খেলাপি ঋণ না কমলে ব্যাংকের মালিকানা হারাবেন পরিচালক

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুলাই ২৬, ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

খেলাপি ঋণ না কমলে ব্যাংকের মালিকানা হারাবেন পরিচালক

বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের হার থেকে বেরিয়ে আসতে ধাপে ধাপে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের শেষে খেলাপি ঋণের হার বর্তমানের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে এবং আগামী বছরের শেষে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শুরুতে সুদ মওকুফসহ বিভিন্ন শিথিলতার মাধ্যমে ঋণ আদায়ে জোর দেওয়া হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি মূলধন ঘাটতি পূরণে ব্যর্থ হলে তারা মালিকানাও হারাতে পারেন।

পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন হলে ব্যাংককে রেজল্যুশন কাঠামোর আওতায় এনে বিক্রি, একীভূতকরণ বা অবসায়নের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি অভ্যন্তরীণ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে মোট ২১টি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, নতুন করে বিশেষ ঋণ পুনঃতপশিল নীতিমালা আনা হবে না।

গত ২৯ জুন জারি করা এক্সিট পলিসির আওতায় অন্তত মূল ঋণ আদায় নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কারণে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সুদ ও তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় মওকুফের সুযোগ রাখা হয়েছে।

চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত নমনীয় নীতিতে ঋণ পরিশোধের সুযোগ থাকবে। এরপর দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়ন, অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধন এবং দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনায় আরও রয়েছে, নমনীয় নীতির সুযোগ নিয়েও যারা ঋণ পরিশোধ করবেন না, তাদের নাম ও ছবিসহ তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ। একই সঙ্গে প্রকৃত খেলাপি ঋণের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ঘাটতি নির্ধারণ করে মূলধন ঘাটতি পূরণের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হবে।

নির্ধারিত সময়েও মূলধন ঘাটতি পূরণ করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট পরিচালকরা মালিকানা হারাবেন এবং পরবর্তী পাঁচ বছর কোনো ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার সুযোগ পাবেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, খেলাপি ঋণ কমানো এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। শুরুতে ঋণ আদায়ে নমনীয় নীতি অনুসরণ করা হলেও পরবর্তীতে অনাদায়ী ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (এএমসি) গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নগদ অর্থের বিনিময়ে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পদ কিনতে পারবে।

তবে সম্পদ বিক্রি করলেও ঋণগ্রহীতা পুরো দায় থেকে মুক্ত হবেন না। বিক্রয়মূল্যের বাইরে বাকি অর্থ পরিশোধের দায় বহাল থাকবে।

Link copied!