জুলাই ২৫, ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কুষ্টিয়া শহরের কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনে ওঠাকে কেন্দ্র করে এক ট্রেনকর্মীর বিরুদ্ধে বাবা-ছেলেকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ যাত্রী ও স্থানীয়রা প্রায় দুই ঘণ্টা ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস আটকে রেখে বিক্ষোভ করেন।
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিক্ষোভ শুরু হলে ট্রেনটি কোর্ট স্টেশনে আটকে যায়। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ট্রেনের লোকোমাস্টার ও টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ ওঠে।
আহতরা হলেন শফিউল আওয়াল সুমন (৪০) ও তার বাবা আব্দুর রহিম (৬৫)।
আহত শফিউল আওয়াল সুমনের দাবি, অসুস্থ মাকে নিয়ে কোর্ট স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠার সময় এক কর্মচারী তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই কর্মচারী তাকে ও তার বাবাকে ছুরিকাঘাত করেন।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ যাত্রী ও স্থানীয়রা ট্রেন আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইতি বলেন, যাত্রী হেনস্তা ও ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান জানান, আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
এদিকে ট্রেনের এক কর্মচারীর ভাষ্য, দুই যাত্রী নির্ধারিত বগির পরিবর্তে অন্য বগি দিয়ে ওঠার চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে কর্মচারীর বাগবিতণ্ডা হয়। পরে এক কর্মচারী ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান বলে তিনি দাবি করেন।
খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেন।
পরে দুপুর সোয়া ২টার দিকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
ইউএনও হারুন অর রশিদ বলেন, ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।