ডেঙ্গুর উপসর্গ নাকি সাধারণ জ্বর? ওষুধ খাওয়ার আগে যা বলছেন চিকিৎসকরা

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুলাই ২৫, ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

ডেঙ্গুর উপসর্গ নাকি সাধারণ জ্বর? ওষুধ খাওয়ার আগে যা বলছেন চিকিৎসকরা

ছবি : সংগৃহীত

দেশজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সাধারণ জ্বর ও ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ আলাদা করে বুঝে ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের মতে, জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথানাশক ওষুধ না খেয়ে প্রথমে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ জ্বরে প্রাথমিকভাবে শুধু প্যারাসিটামল সেবন করা উচিত। তবে জ্বরের সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, সারা শরীর ও গিঁটে গিঁটে ব্যথা কিংবা শরীরে লালচে র‍্যাশ দেখা দিলে তা ডেঙ্গুর লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ কিংবা অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে শুধু প্যারাসিটামল খেতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। তিনি শিশুদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি ও অন্যান্য তরল খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি বাইরে বের হলে ফুলহাতা পোশাক ও মোজা পরানোর পরামর্শ দেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে করোনা, ডেঙ্গু ও ডায়রিয়াসহ একাধিক ভাইরাসজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তবে আতঙ্কিত না হয়ে উপসর্গ দেখা দিলেই পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, প্রতি বছরই ডেঙ্গু মোকাবিলায় সাময়িক উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। শুধু কীটনাশক ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, এ জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এডিস মশা পরিষ্কার ও অল্প গভীর জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই ফুলের টব, টায়ার, ছাদ বা বারান্দায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। তিনি জানান, সূর্যোদয়ের পরের দুই ঘণ্টা এবং সূর্যাস্তের আগের দুই থেকে তিন ঘণ্টা এডিস মশার কামড়ানোর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।

আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী বলেন, বর্তমানে ডেনভ-৩ সেরোটাইপের সংক্রমণ বাড়ায় রোগীদের মধ্যে দ্রুত জটিলতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই জ্বরকে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের ৫৯টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চলতি বছরের ২৩ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ২০ জন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১০ হাজার ৯১১ জন।

Link copied!