জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
ছবি/ বাসস
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধ করতে সবাইকে সচেতন ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
শনিবার পরিবেশ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর আওতায় আয়োজিত একটি বর্ণিল শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
উপদেষ্টা বলেন, “কারণে-অকারণে হর্ন বাজানো আমাদের বহুদিনের একটি খারাপ অভ্যাস। এই অভ্যাস পরিবর্তনে যেমন আইন দরকার, তেমনি মানুষের মানসিকতারও পরিবর্তন জরুরি।”
জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
রিজওয়ানা হাসান জানান, ‘শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫’-এর গেজেট ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। এই বিধিমালার আওতায় পরিবেশ অধিদপ্তরের পাশাপাশি পুলিশকেও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা রাস্তায় থেকেই শব্দদূষণকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে। তিনি বলেন, ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকাকে ইতোমধ্যে নীরব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে এবং এসব এলাকায় মনিটরিং আরও জোরদার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শব্দদূষণের প্রধান দুটি উৎস— অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানো ও আতশবাজি ফোটানো—কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্দিষ্ট স্থানে নববর্ষসহ বিশেষ সময়ে আতশবাজি ফোটানোর ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আগামী নির্বাচিত সরকার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া কর্মসূচিগুলো অব্যাহত রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপদেষ্টা। এ ক্ষেত্রে মানুষের অভ্যাস পরিবর্তনে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আপনারা নিজ নিজ জায়গা থেকে মানুষকে হর্ন না বাজানোর বার্তা প্রচার করুন।”
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “পরবর্তী প্রজন্মকে বধির হওয়া থেকে রক্ষা করতে হলে শব্দদূষণের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই টেকসই পরিবর্তন আসবে।”
‘আর নয় শব্দ দূষণ, জয় হোক সুস্থ জীবন’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই শোভাযাত্রা সকালে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হয়ে ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার ও বিজয় সরণি হয়ে আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে গিয়ে শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান এবং ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সারোয়ার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদসহ পরিবেশ অধিদপ্তর ও ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের আওতায় গত ৫ জানুয়ারি থেকে ঢাকার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১০ দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়, যা শনিবারের মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে শেষ হয়। এ কার্যক্রমে গ্রীন ভয়েস-এর তরুণ স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীরা সহযোগিতা করেন।