২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ: বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ৮, ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম

২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ: বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ছবি: সংগৃহীত।

বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও বহুমুখী ও টেকসই করতে নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। চলতি অর্থবছরে বিশ্বের ২০২টি দেশে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সোমবার জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ এখনও তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। এই নির্ভরতা কমিয়ে অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতকে এগিয়ে নিতে সরকার বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

মন্ত্রী জানান, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত সামগ্রী, কৃষিপণ্য, ওষুধ শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, হালকা প্রকৌশল পণ্য, হিমায়িত খাদ্য এবং প্লাস্টিক শিল্পকে রপ্তানির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব খাতের রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধাও চালু করা হয়েছে।

আঞ্চলিক পর্যায়ে উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে ‘এক জেলা এক পণ্য’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এই কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলার বিশেষায়িত পণ্য চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার কাজ চলছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দেশের প্রায় ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সহযোগিতা সম্প্রসারণে আলোচনা চলছে।

রপ্তানি সম্প্রসারণে ব্রাজিল, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বাণিজ্য প্রতিনিধি দল পাঠানো হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ জোরদার করা হয়েছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন তহবিল থেকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কাঁচামাল আমদানির জন্য রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের সুবিধার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ঋণ কর্মসূচিও চালু রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও বাণিজ্য শাখাগুলো অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারের মাধ্যমে নতুন বাজার তৈরিতে কাজ করছে। একই সঙ্গে পণ্যের মানোন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে রপ্তানি নীতি ২০২৪-২০২৭ প্রণয়ন করা হয়েছে। এলডিসি-পরবর্তী সময়ে দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে নতুন বাণিজ্য চুক্তি, বাজার সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি জানান, পণ্যের বৈচিত্র্য ও রপ্তানিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘কাগজ ও প্যাকেজিং পণ্য’কে ২০২৬ সালের বর্ষসেরা রপ্তানি পণ্য ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও বৈশ্বিক উৎসভিত্তিক প্রদর্শনীগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।

Link copied!