আগস্ট ১২, ২০২৩, ১১:১৯ পিএম
ছবি: দ্য রিপোর্ট ডট লাইভ
খুনী জিয়াউর রহমান জীবিত থাকলে তাঁকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদেরকে হত্যার করার জন্য অবশ্যই সাজা দেওয়া হত।
শনিবার (১২ অগাস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ঢাদসিক) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
ঢাদসিক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, "মার্চ মাসে খুনি রশিদ, খুনি ফারুক তাকে (জিয়াউর রহমান) জানিয়েছেন যে, আমরা রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করতে চাচ্ছি। ডেপুটি চিফ অফ আর্মি স্টাফ থাকাকালীন সেনানিবাসে ওনার বাসায় গিয়ে অধস্তন কর্মকর্তারা তাকে জানালো যে, তারা এরকম রাষ্ট্রদ্রোহ কার্যকলাপে লিপ্ত হতে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে যে, উনি তখন কি দায়িত্ব পালন করলেন, কি ব্যবস্থা নিলেন? মার্চ থেকে অগাস্ট পর্যন্ত উনি ওনার ঊর্ধ্বতন কারো কাছে এ তথ্য প্রকাশ করেননি। বরং উনি বলেছেন -- ইউ গো এহেড।
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যখন অধস্তন কর্মকর্তাকে বলেন -- ইউ গো এহেড -- সেনা শিষ্টাচারে এটার মানে হলো, ইট ইজ এন অর্ডার। এন অর্ডার টু জুনিয়র অফিসার -- তোমরা রাষ্ট্রপতিকে গিয়ে হত্যা করো। এবং ১৫ অগাস্ট ঘটনা ঘটানোর পরে যারা সেনাসদরে বাধা দেওয়ার চিন্তা করেছিল বা চেষ্টা করেছিল -- খুনি রশিদ-ফারুকের নেতৃত্বে তাদেরকে আটক করে নিয়ে গিয়েছিল। তারা নিয়ে গিয়েছিল খুনি জিয়াউর রহমানের কাছে। কেন? কারণ উনি তাদেরকে শেল্টার দেবেন। সেটা নিশ্চত ছিল।
সেজন্যই তার কাছে গিয়েছিল এবং যারা বাধা দিতে চেষ্টা করেছেন, খুনি জিয়াউর রহমান তাদেরকে আটক করেছেন। আর যারা খুনি তিনি তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছেন, তাদেরকে মুক্ত রেখেছেন। এই যে নেক্সাস (বন্ধন), এই যে রিলেশনশিপ -- এতেই প্রমাণ হয় যে, সেখানে ষড়যন্ত্র ছিল, যোগসাজশ ছিল। যার ফলশ্রুতিতে উনি (জিয়াউর রহমান) ওনার ভূমিকা পালন করেছেন। ডেপুটি চিফ অফ আর্মি স্টাফ হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে যে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল, তার পুরো উল্টো করে উনি খুনিদের পক্ষে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এর পরবর্তীতে বিভিন্ন কার্যক্রমে সেসব বিষয় আরো পরিষ্কার হয়। এ দুটি ঘটনায় যথেষ্ট যে -- জিয়াউর রহমানের ষড়যন্ত্র এবং এ হত্যাকাণ্ডের সাথে থেকে নেপথ্যে দায়িত্ব পালন প্রমাণ করা -- যেটিকে আমরা আইনের ভাষায় বলি, বিয়ন্ড রিজনেবল ডাউট, সে বিয়ন্ড রিজনেবল ডাউট প্রমাণ করা। খুনি জিয়াউর রহমান যদি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা পরিচালনায় সময় জীবিত থাকতেন, তাহলে অবশ্যই তাকে সাজা এবং দণ্ড দেওয়া হতো।"
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে মানবতা ভূলুণ্ঠিত ও সংবিধান লঙ্ঘিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করে ঢাদসিক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, "বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সংবাদ জানানোর পর খুনি জিয়া বলেছিল - সো হোয়াট। ভাইস প্রেসিডেন্ট আছে, সংবিধান আছে। কিন্তু আমরা দেখেছি, ভাইস প্রেসিডেন্টকেও ক্ষমতা দেওয়া হয়নি, সংবিধানও বাস্তবায়ন করা হয়নি।"
নতুন করে ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে ঢাদসিক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস এ সময় বলেন, "কথায় কথায় আজকে শুনি যে -- সংবিধান কিছু না। ইচ্ছে করলে ফেলে দিতে পারি, ইচ্ছে করলে ছিঁড়ে ফেলতে পারি, ইচ্ছে করলে পরিবর্তন করতে পারি। যারা এটা বলছেন, এটাই স্বাভাবিক যে তারা এটা বলবেন। কারণ তাদের ইতিহাস তা-ই বলে। তারা সংবিধানকে ভূলুণ্ঠিত করে, কাটাছেড়া করে, সংবিধানকে রঙিন করে তারা ক্ষমতায় গিয়েছিল। বারবার সেভাবেই তারা ক্ষমতায় যেতে অভ্যস্থ। তাদের কাছে সংবিধানের কোনো মূল্য নেই, গণতন্ত্রের কোনো মূল্য নেই। কিন্তু আজকে আমাদেরকে জাতিগতভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সংবিধানে কোন ব্যত্যয় করে গণতন্ত্রকে আর ভূলুণ্ঠিত করা যাবে না। কারণ, গণতন্ত্র বাস্তবায়নের মূল হাতিয়ারই হলো সংবিধান। সংবিধানের বাইরে গণতন্ত্র বাস্তবায়ন হতে পারে না।