সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা মির্জা ফখরুলের

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ২০, ২০২৬, ০২:০২ পিএম

সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা মির্জা ফখরুলের

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর | ফাইল ছবি

বিএনপির মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

আজ (বৃহস্পতিবার ) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের আগে তিনি এ প্রত্যাশার কথা জানান। জাতীয় সংসদে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গঠিত সরকারের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তিনি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন, যেখানে প্রান্তিক মানুষ, খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠী ও দিনমজুররা দুই বেলা পেট ভরে খেতে পারবেন। তারা সুস্থ পরিবেশে বসবাসের পাশাপাশি নিরাপদ ও নিশ্চিন্তে জীবনযাপন করতে পারবেন।

তিনি বলেন, দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সমাজের জন্য আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ একটি আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।

তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি ও প্রত্যাশা করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণ করতে সক্ষম হবে।

দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি তিনি শুকরিয়া আদায় করেন। দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামে তিনি তাদের পাশে ছিলেন। সুখে-দুঃখে মানুষের সঙ্গে থাকার সুযোগ পাওয়ায় তিনি দেশবাসীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গণমাধ্যমসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞতা তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি প্রকাশ করতে চান। তার নেতৃত্বেই ‘প্রত্যাশিত বাংলাদেশের’ গন্তব্যে দেশ পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে কী কী মিস করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, অনেক কিছু মিস করবেন। বিষয়টি স্মরণ করতে গিয়ে তিনি আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বলেও জানান।

তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে দেশবাসীর সুস্থতা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করেন। একই সঙ্গে কল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণে সবাইকে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, এদিন সবচেয়ে বেশি তার মনে পড়ছে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কথা। এই মহীয়সী নারী নেত্রীর সান্নিধ্য ও স্নেহ পেয়েছেন উল্লেখ করে তাকে স্মরণ করলে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলেও জানান।

বামঘরানার ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভাসানী ন্যাপের রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে আসেন। পরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বিএনপিতে যোগ দেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় খালেদা জিয়া তাকে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব দেন।

২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। পরে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভার স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন এ নির্বাচন পরিচালনা করবেন। দুপুর ২টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, তিনি দুপুর ২টায় সংসদে গিয়ে ভোট দেবেন।

গত কয়েকদিন ধরে হেয়ার রোডের ৩৫ নম্বর বাসভবনে নেতাকর্মীদের ভিড় দেখা গেছে। নিজের নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীরা তাকে একনজর দেখতে সেখানে ভিড় করছেন। মির্জা ফখরুলও তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের জন্য দোয়া চাচ্ছেন।

বুধবার বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় অংশ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে এটিই ছিল সংসদীয় দলের সভায় তার শেষ অংশগ্রহণ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তার ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হবে।

Link copied!