জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সব কর্মকর্তা ও সৈনিককে পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, নির্বাচনে কোনো দলের পক্ষ নেওয়া যাবে না এবং কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতের সুযোগ নেই।
গতকাল রবিবার ঢাকা সেনানিবাসে সেনাপ্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’ শীর্ষক দরবারে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকার বাইরে কর্মরত সেনা কর্মকর্তারা অনলাইনে এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হন। এর আগে তিনি সৈনিকদের উদ্দেশেও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
সেনাবাহিনীর একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, অফিসার্স অ্যাড্রেসে সেনাপ্রধান বর্তমান পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ভোটের মাঠে শতভাগ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সেনাপ্রধান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। নির্বাচনপূর্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে রাখতে হবে, যাতে সব শ্রেণির মানুষ নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন। ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে এবং ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন। এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সেনাবাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা দেশ ও জাতি চিরকাল স্মরণ রাখবে। নির্বাচন শেষে গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা বুঝিয়ে দিয়ে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরে যেতে হবে।
অফিসার্স অ্যাড্রেসে সেনাপ্রধান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গুজব ও অপপ্রচার, উসকানিমূলক বক্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে সতর্কতা দেন। তিনি কর্মকর্তা ও সৈনিকদের ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যেকোনো উসকানিতে প্রতিক্রিয়া না দেখানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন, যাতে নির্বাচনে সহিংসতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যায়।