জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
ছবি: সিএএফ
ঐতিহাসিক মুহূর্তের অপেক্ষায় মরক্কোর রাবাতের প্রিন্স মাওলা আব্দুল্লাহ স্টেডিয়াম। আজ আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্বাগতিক মরক্কোর মুখোমুখি হবে সেনেগাল। প্রায় ৭০ হাজার দর্শক ধারণক্ষম স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’দের সমর্থনে স্লোগান ওঠা অবধারিত। এই মঞ্চেই শেষ হতে পারে মরক্কোর ফুটবল ইতিহাসের দীর্ঘ ৫০ বছরের অপেক্ষা।
১৯৭৬ সালে সর্বশেষ আফ্রিকার সেরা হয়েছিল মরক্কো। সেই সময় বর্তমান তারকা আশরাফ হাকিমির জন্মই হয়নি। প্রজন্ম বদলালেও বদলায়নি শিরোপাহীনতার হতাশা। তাই নিজ মাঠে ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে মরিয়া কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুইয়ের দল। তবে ফাইনালটি যেমন মরক্কোর জন্য ঐতিহাসিক, তেমনি সেনেগালের জন্যও বিশেষ। মিসরকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করার পরই সেনেগাল তারকা সাদিও মানে ঘোষণা দিয়েছেন, এটিই তাঁর শেষ আফ্রিকান নেশন্স কাপ। ৩৩ বছর বয়সী সাবেক লিভারপুল উইঙ্গার বিদায়ী মঞ্চে ‘লায়ন্স অব তেরেঙ্গা’কে দ্বিতীয় শিরোপা এনে দিতে চান।
তবে স্বাগতিক সুবিধা ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় ফাইনালে এগিয়ে মরক্কোই। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে আফ্রিকা অঞ্চলে মরক্কোর অবস্থান ১১ নম্বরে, সেনেগালের ১৯। মুখোমুখি লড়াইয়েও এগিয়ে স্বাগতিকরা—সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩১ ম্যাচে মরক্কোর জয় ১৮টি, সেনেগালের ৭টি, বাকি ৬টি ড্র। গত ১৪ বছরে মরক্কোকে হারাতে পারেনি সেনেগাল। সর্বশেষ দুই ম্যাচেও জয় পেয়েছে মরক্কো।
পরিসংখ্যানের বাইরেও সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ছন্দে আছে মরক্কো। ২০২২ বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনাল খেলে ইতিহাস গড়ে তারা। টানা দুই বছর অপরাজেয় থেকেছে দলটি। বর্তমানে অধিনায়ক পিএসজির ফুলব্যাক আশরাফ হাকিমিকে আফ্রিকার সেরা ফুটবলারদের একজন হিসেবে ধরা হয়।
তবে অর্ধশত বছরের শিরোপা খরা ফাইনালে বাড়তি চাপ তৈরি করছে স্বাগতিকদের ওপর। শুরু থেকেই প্রত্যাশার ভার নিয়ে খেললেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে ওয়ালিদের দল। সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর পুরো মরক্কো তাকিয়ে আজকের ম্যাচের দিকে।
‘আমি মনে করি আমরা ফাইনালের যোগ্য। মালি, ক্যামেরুন ও নাইজেরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলেছি। এখানকার মানুষের উন্মাদনায় প্রমাণ হয়েছে মরক্কো একটি ফুটবল জাতি। তবে এখনও শেষ ধাপ বাকি—আমাদের ট্রফি জিততে হবে। এই ম্যাচ আমাদের ফুটবল ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,’ বলেন মরক্কো কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই।
অন্যদিকে, আফ্রিকান নেশন্স কাপের চার আসরের মধ্যে তিনবারই ফাইনাল খেলছে সেনেগাল। ২০২২ সালে মিসরকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর এবার সেই মিসরকেই হারিয়ে আবার ফাইনালে উঠেছে তারা। এই মঞ্চেই শেষবারের মতো নেশন্স কাপে খেলবেন মানে ছাড়াও গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্ডি, অধিনায়ক কালিদো কৌলিবালি ও মিডফিল্ডার ইদ্রিসা ঘানা গুয়ে—যাদের বয়স ৩৩ থেকে ৩৬-এর মধ্যে।
বিদায়ী ম্যাচের আগে মানে বলেন, আমি দেশের একজন যোদ্ধা। ট্রেনিং কিংবা ম্যাচ—সবখানেই আমি সেরাটা মেলে ধরার চেষ্টা করি। কিন্তু আমার কাছে এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দাকার থেকে ট্রফি নিয়ে দেশে ফেরা।