জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ডাক্তারদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি আজ রোববার বেলা ২টায় প্রত্যাহার করা হয়েছে। হাসপাতালের সামনে এই ঘোষণা দেন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা।
এর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়। গত শুক্রবার রাতে এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার পর তারা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। আগামী সোমবার সকাল থেকে তারা পুনরায় কাজে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ সাদিক।
বৈঠকে চিকিৎসকরা আট দফা দাবি পেশ করেন। এতে বলা হয়েছে—প্রতিটি অ্যাডমিশন ইউনিটে দুইজন প্রশিক্ষিত আনসার (পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে একজন করে) রাখা, সকালেই এক ঘণ্টা পর পর টহল টিমের মাধ্যমে ওয়ার্ড পর্যবেক্ষণ, রাতে অন কল ইমার্জেন্সি ফোর্স প্রস্তুত রাখা, রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুইজন এটেন্ডেন্ট রাখা, শীত ও গ্রীষ্মকালীন আলাদা ভিজিটিং টাইম চালু করা, প্রতি মাসে ইন্টার্নদের জন্য পরিচালক-সদস্য মাসিক সভা আয়োজন, এডমিশনের দিনে মিডলেভেল ডাক্তার উপস্থিত রাখা, সহকারী রেজিস্ট্রারদের শিক্ষানবিশদের প্রশিক্ষণে দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা, হাসপাতালের পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীদের কার্যকর দায়িত্ব পালন এবং ঔষধ কোম্পানির স্বাধীন প্রবেশাধিকার বন্ধ করা।
হাসপাতালে অপ্রীতির ঘটনা ঘটার পর অনেক শিক্ষানবিশ চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকায় অন্যান্য চিকিৎসক ও স্টাফদের কাজ বৃদ্ধি পেয়েছে। রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন, সেবার মানে ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। তবে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির জানিয়েছেন, সেবা বিঘ্নিত না হয় তা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন। তিনি বলেন, শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস পাওয়ার পরই কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন। নিরাপত্তা বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং হাসপাতালের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় সার্বক্ষণিক আনসার মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার রাতের ঘটনার সময় হাসপাতালের চতুর্থ তলার চার নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে ছাতক থেকে এক নারী রোগী ভর্তি হন। তখন অন্য ওয়ার্ডে থাকা শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের বাকবিতণ্ডা হয়। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, রোগীর স্বজনরা মারমুখী হয়ে শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে হেনস্থা ও মারধর করার চেষ্টা করছেন।
ঘটনার পর পুলিশ সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার কৈতক গ্রামের শিমুল আহমদ, তার স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা এবং দৌলতপুর গ্রামের জাবেদ মিয়াকে আটক করে। তাদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্টাফরা মারধর করেন। শনিবার বিকেলে তাদেরকে ৫৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করা হয়। পুলিশের বরাত দিয়ে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির বলেন, কেউ মামলা না করার কারণে তাদেরকে সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়েছে।