দেশে ফের গণটিকা কার্যক্রম শুরু হওয়ায় কেন্দ্রগুলোতে টিকাগ্রহীতাদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। টিকাদান কার্যক্রম শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে সম্পন্ন করতে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী নিয়জিত রয়েছেন। অতিরিক্ত লোকের চাপে সামলাতে তাদের দুয়েকজনের মেজাজ বিগড়ে যাচ্ছে। এমনি পরিস্থিতিতে এক যুবককে পুলিশ গলা ধাক্কা দিয়ে লাইন থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর ধানমন্ডি থানার একটি টিকাকেন্দ্রে এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। পরে অবশ্র ওই যুবক টিকা নিতে পেরেছেন।
রাজধানীর ধানমন্ডি ৮/এ লেকের পাশেএকটি গণ টিকাদান কেন্দ্রকে ঘিরে চারটি সারিতে দাড়িঁয়ে রয়েছেন টিকা গ্রহীতারা। তাদের মধ্যে বৃদ্ধ, মহিলা, সুবিধা বঞ্চিত মানুষসহ রয়েছেন সকল পেশার মানুষ। সকাল সাড়ে ১১ টার সময়ে তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে দীর্ঘক্ষন রোদে দাড়িঁয়ে অনুভব হচ্ছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কারো হাতে ছাতা, কেউ কেউ ওড়না অথবা কাগজ দিয়েই ঢাকছেন মাথা। সকাল ৯ টা থেকে টিকা দানের কথা থাকলেও টিকা নেওয়ার জন্য লাইনে মানুষ জড়ো হওয়া শুরু হয়েছে ভোর চারটা থেকে।
এই মৃদু শান্ত পরিবেশ হঠাৎই যেন আরও উতপ্ত হয়ে উঠে। দেখা যায় কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এস আই) গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিচ্ছেন একজন টিকা গ্রহিতাকে। এনিয়ে ওই পুলিশের সঙ্গে চলে বাকবিতণ্ডা। একসময় সাংবাদিকদের ক্যামেরার উপস্থিতি টের পেয়ে কেটে পড়েন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে অনেক খোঁজার পরও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পুলিশের গলাধাক্কা খাওয়া ওই ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য রিপোর্টকে বলেন, ভোর চার টায় এসে লাইনে দাড়িঁয়ে টোকেন সংরক্ষন করেছি। তবে সকাল থেকে দাড়িঁয়ে থেকেও সিরিয়ালে তার নম্বর আসছে না।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘স্বজনপ্রীতির কারণে ও পরিচিত লোকদের আগে এনে লাইনে দাড়ঁ করানো হচ্ছে। তাই বেলা ১২ আটায়ও আগায়নি সেই লাইন।’
টিকা নিতে আসা অনেকেই আছেন যারা গত দুইদিন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও টোকেন পাননি। তারপরও তৃতীয় দিনের মত এসেছেন টিকা পাওয়ার আশায়। তাদের মধ্যে একজন রেবেকা বানু। তৃতীয় দিনে এসেও তিনি শুনছেন টিকা গ্রহনের টোকেন দেয়া শেষ হয়ে গেছে। রেবেকা বানুর অভিযোগ, তিনি টোকেন না পেলেও তার পেছনের তিন নারী ব্যাক্তিগত পরিচয় থাকায় বিশেষ অনুরোধে টোকেন পেয়ে গেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নারী তিনজনের সাথে কথা বলে জানা যায় তার স্বামী ওই কেন্দ্রে কর্মরত আছেন। তাই নিজেসহ আরও দুইজনকে অনুরোধ করে টোকেনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
শুধু ধানমন্ডি নয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল এন্ড কলেজসহ আরও বেশ কিছু কেন্দ্রেও রয়েছে এই ধরনের অভিযোগ। ভোর থেকে দাড়িঁয়েও টিকা পাচ্ছেন না। বেলা গড়ানোর আগেই শেষ হয় যায় সেই টিকা। তারপর অপ্রীতিকর ও অশোভন আচরণের শিকার হচ্ছেন দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের থেকে।
টিকা কেন্দ্রে দায়িত্বরত মেহেদি হাসান ইমন বলেন, ‘টিকা না দিয়ে মজুদ রাখার কোন উপায় নেই। এই টিকার কার্যকারীতা থাকে ছয় ঘন্টা। এর মধ্যেই তাদের টিকাদান কর্মসূচী শেষ করতে হয়। তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেকদিন ৩৫০ টি করে টিকা প্রদান করা হয়। সেখানে টিকা গ্রহণ করতে আসা মানুষের সংখ্যা পাচঁ হাজারের বেশি। তাই এই বিশৃংখ্যলা সৃষ্টি হচ্ছে।’
এদিকে ১১ আগস্ট থেকে তুলে নেয়া হচ্ছে লকডাউন। অন্যদিকে করোনায় মৃত্যের সংখ্যা বেড়ে হাসপাতাল কেন্দ্রগুলো ভারী হয়ে উঠছে স্বজনদের আহাজারীতে। এমন সময় লকডাউন তুলে নেওয়ায় অধিকাংশ মানুষকে টিকার আয়তায় আনতে না পারলে ভবিষ্যত পরিস্থিতি কি হতে পারে তা নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় আছেন দেশের সচেতন মানুষ।