রাবি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে উঠেছে অভিযোগের পাহাড়

মীর কাদির

মে ১১, ২০২৪, ০৯:৩২ পিএম

রাবি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে উঠেছে অভিযোগের পাহাড়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। ফাইল ছবি

> মারধর-নির্যাতন-হুমকি
> চাঁদাবাজি
> সিট দখল ও বাণিজ্য
> দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি
> ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা

দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর পর গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ পেয়েছে নতুন কমিটি। এতে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুকে সভাপতি ও আসাদুল্লাহ-হিল গালিবকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩৯ সদস্যেবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

নতুন কমিটি পেয়েই একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছে শাখার বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীরা।

“সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে ভুক্তভোগী আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। যদি তিনি আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন, তবে আমরা তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবো”
- শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান
সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ

কমিটির ৬ মাস যেতে না যেতেই চাঁদাবাজি, মারধর, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সিট দখল, আবাসিক শিক্ষার্থীকে হল থেকে নামিয়ে দেওয়া, হত্যার হুমকি, হলে ফ্রি (বিনামূল্যে) খাওয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। অথচ এসব অভিযোগ যেন শুধু অভিযোগই। নেওয়া হচ্ছে না কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা। উল্টো কোনো ধরনের তদন্ত কমিটি গঠন না করে ‘অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি’ বলে দায়সারা বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা।

প্রতিবেদকের অনুসন্ধান ও গণমাধ্যম সূত্র জানায়, গত ৬ মাসে অন্তত ২২টি অভিযোগ রয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে মারধর, নির্যাতন ও হুমকির অভিযোগ সাতটি, চাঁদাবাজি দুটি, সিট দখল পাঁচটি, দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি চারটি, ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা দুটি।

এত অভিযোগের মধ্যে শুধু একটি ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে একজনকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে শাখা ছাত্রলীগ।

“কোনো ছাত্র সংগঠন যেন অছাত্রসুলভ আচরণ না করে সেটা নিয়ে আমরা সবসময়ই নির্দেশনা দেই। কেউ যদি অপরাধের সীমা পার করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এসব সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ডেকে তাদেরকে এসব কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়া হলের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রভোস্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে”
- অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম
উপ-উপাচার্য (প্রোভিসি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি)

ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব অভিযোগের মধ্যে শহীদ হবিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মিনহাজুল ইসলাম ওরফে মিনহাজ ও নবাব আবদুল লতিফ হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তাশফিক আল তাওহীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সংশ্লিষ্টতা আছে। তারা দুজনই জয়পুরহাটে বসবাস করেন। সভাপতির জেলাপ্রীতির কারণে ‘আস্থাভাজন’ হিসেবেই ক্যাম্পাসে তারা বেশি পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমা হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাখা ছাত্রলীগের এক সহ-সভাপতি বলেন, “এত অভিযোগ থাকার মিনহাজ ও তাওহীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কারণ তারা সভাপতির আস্থাভাজন। তাদেরকে অপরাধের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। সভাপতির আশ্রয়ে তারা সব অপরাধ করছে। যদি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তবে তারা এত সাহস পেত না।”

মারধর-নির্যাতন-হুমকি
গত ২২ নভেম্বর শহীদ শামসুজ্জোহা হলের সিট দখল করতে না চাওয়ায় শাহাবুদ্দিন নামের ছাত্রলীগের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে একই দলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। তার কয়েকদিন পরেই মধ্যরাতে উচ্চশব্দে গান-বাজনা করতে নিষেধ করায় শহীদ হবিবুর রহমান হলে সাংবাদিকসহ শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে ওই হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আল আমিন আকাশ, ছাত্রলীগ কর্মী সম্রাট, ইমরান, নাফিজ ও আমির হামজার বিরুদ্ধে।

চলতি বছর ১৮ ডিসেম্বর নবাব আব্দুল লতিফ হল ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা তাসকিফ আল তৌহিদ বিরুদ্ধে মফিজুর রহমান নামে এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হল থেকে নেমে যাওয়ার হুমকির অভিযোগ ওঠে।

“সবকিছু আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি। যখন যে সমস্যা হয়েছে আমরা তাৎক্ষণিক সেগুলোর খোঁজ নিয়েছি। কিছু কিছু বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বা সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবে কিছু কিছু বিষয়ে ছাত্রদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। সেগুলো নিয়ে আমরা কথা বলে সঙ্গে সঙ্গেই সমাধান করেছি”
- মোস্তাফিজুর রহমান বাবু
সভাপতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগ

২৯ জানুয়ারি শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িতের অভিযোগ তুলে শাহ মখ্দুম হলে এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তবে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিবিরের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।

২২ ফেব্রুয়ারি হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ায় প্রাধ্যক্ষকে ফোনে লাশ ফেলানোর হুমকি দেন নবাব আব্দুল লতিফ হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন।

৭ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের ৩২৩ নম্বর কক্ষে  হলের কক্ষের দরজা লাগিয়ে রোজিনা আক্তার নামে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তামান্না আক্তার তন্বী, রহমতুন্নেছা হল ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা আশরাফী ওরফে রিমি, ছাত্রলীগ কর্মী লামিয়া ইসরাত, নওরীন শৈলী ও রিয়ার বিরুদ্ধে।

ইফতার না করানোয় টাকা ফেরত চাওয়ায় নবাব আব্দুল লতিফ হলের কক্ষে আটকে রেখে সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী খাদেমুল ইসলামকে মারধর ও হুমকির অভিযোগ উঠে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি  তাসফীক আল তৌহিদ ও তার অনুসারী মোজ্জাম্মেল হকের বিরুদ্ধে।

চাঁদাবাজি
গত ৬ মার্চ ক্যাম্পাসের ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠে, শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান লাবন, শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম সাদিক, নবাব আবদুল লতিফ হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তাশফিক আল তাওহীদ ও মাদার বখ্স হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তামিমের বিরুদ্ধে।

“নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির দায় সংগঠন নেবে না। কেউ যদি অপরাধ করে তার বিরুদ্ধে সংগঠন ব্যবস্থা নেবে”
- শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান
সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ

গত ১২ মার্চ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান সোহাগ ও শহীদ হবিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মিনহাজুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানির কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

সিট দখল ও বাণিজ্য
গত ২১ নভেম্বর ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী নিকল রায়কে হুমকি ও শারীরিক নির্যাতন করে সিট থেকে নামিয়ে দেওয়া অভিযোগ উঠে হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মিনহাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ফজলে রাব্বি ও কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গত ১ ডিসেম্বর আবির হোসাইন নামে এক শিক্ষার্থীর বিছানাপত্র নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠে।

১৬ জানুয়ারি শহীদ হবিবুর রহমান হলের হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সোহান হাসান এক শিক্ষার্থীকে কক্ষ থেকে বের করে দেন।

এছাড়া সিট বাণিজ্যের চেষ্টার অভিযোগে ৩০ জানুয়ারি শহীদ শামসুজ্জোহা হল ছাত্রলীগের কর্মী আল আমিন পিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

সবশেষ গত ১ মে শাহ্ মখদুম হল ছাত্রলীগের সভাপতি তাজবীউল হাসান অপূর্বের সিট দখল ও তাকে হত্যার হুমকি দেন শহীদ হবিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি মিনহাজুল ইসলাম ও শাহ্ মখদুম হল ছাত্রলীগের সহসম্পাদক মিঠু মহন্ত। অপূর্ব এখন রাজনীতিতে সক্রিয় নন।

দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি
গত ১৩ নভেম্বর রাতে নবাব আব্দুল লতিফ হলে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে হলের সিট থেকে নামিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়।

এর অব্যবহিত কয়েকদিন পরেই গত ২৪ নভেম্বর মতিহার হলের ক্যান্টিনে বসাকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে ৩ দফা মারামারির ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য সাকিবুল হাসান ওরফে বাকিকে মারধর করে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য করেছেন শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিবের অনুসারীরা।

এরপর চলতি বছর ৪ মার্চ নবাব আব্দুল লতিফ হলে পাঠাগারের জায়গা দখল নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন লতিফ হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তাসফীক আল তৌহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুর রহমান ও ছাত্রলীগ কর্মী শাওন।

২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার মধ্যেই গত ৫ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতাকর্মীদের মধ্যে মাদার বখ্শ হলগেটে হাতাহাতির ঘটনায় ছাত্রলীগের একপক্ষের নেতাকর্মীদের হাতে রড ও লাঠিসোঁটা দেখা যায়।

ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা
২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এই হামলায় চার নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানান ছাত্রদল নেতারা।

সবশেষ গত ৬ মে রাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাফিউল ইসলাম জীবন ও তার বন্ধু ইউনুস খানকে মাদার বখ্শ হলে আটকে মারধর, পিস্তল ঠেকিয়ে ভয়ভীতি ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিব ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

এছাড়া খাবারে তেলাপোকা ও মাছি ফেলার ভয় দেখিয়ে গত ৫ বছর ধরে ডাইনিং ও ক্যান্টিনে ফ্রিতে খাবার খাওয়ার অভিযোগ উঠে  মিনহাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গত মার্চে ডাইনিং-ক্যান্টিনের কর্মচারীরা এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ দেয়। রোজার মাসে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইফতার পার্টির ওপর ‘বিধিনিষেধ’ আরোপের প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গণইফতার কর্মসূচিতে শিবিরসংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে প্রথমে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে বাধা দেন। পরে ‘পাহারাদার’ হিসেবে তারা অংশ নেন।

নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা বলছেন, সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। যেগুলো পাওয়া গেছে সেগুলো ভুল বোঝাবুঝি থেকে হয়েছে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, “সবকিছু আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি। যখন যে সমস্যা হয়েছে আমরা তাৎক্ষণিক সেগুলোর খোঁজ নিয়েছি। কিছু কিছু বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বা সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবে কিছু কিছু বিষয়ে ছাত্রদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। সেগুলো নিয়ে আমরা কথা বলে সঙ্গে সঙ্গেই সমাধান করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “খোঁজ নিয়ে দেখবেন গত ৬ মাসের সব ঘটনার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছি।”

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে জানতে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল-গালিবকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও সাড়া দেননি তিনি।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেন, “নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির দায় সংগঠন নেবে না। কেউ যদি অপরাধ করে তার বিরুদ্ধে সংগঠন ব্যবস্থা নেবে।”

ছাত্রদলের নেতাকে নির্যাতনের বিষয়ে ইনান বলেন, “এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে ভুক্তভোগী আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। যদি তিনি আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন, তবে আমরা তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবো।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপ-উপাচার্য (প্রোভিসি) অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, “কোনো ছাত্র সংগঠন যেন অছাত্রসুলভ আচরণ না করে সেটা নিয়ে আমরা সবসময়ই নির্দেশনা দেই। কেউ যদি অপরাধের সীমা পার করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এসব সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ডেকে তাদেরকে এসব কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়া হলের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রভোস্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

Link copied!