ছবি: সংগৃহীত
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় সংসদে পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেটে গত অর্থবছরের তুলনায় শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব আসতে পারে।
জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হতে পারে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১.৩৯ শতাংশ।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা যায়, শক্তিশালী ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ, এপ্রেনটিসশিপ ও ইন্টার্নশিপ সুবিধা এবং স্টার্ট-আপ উদ্যোগের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরিতে জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি “ব্রেইন ড্রেইন”কে “ব্রেইন সার্কুলেশন”-এ রূপান্তরের লক্ষ্যেও কাজ চলছে। বিদেশে থাকা দক্ষ ও উচ্চশিক্ষিত বাংলাদেশিদের দেশের শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণ চালুর কথাও বলা হয়েছে।
শিক্ষা কারিকুলামে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে ক্লাবভিত্তিক সহশিক্ষা কার্যক্রম যেমন বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করা হবে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানা গেছে।
এছাড়া বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানিজ, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ ও জার্মানসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে তৃতীয় ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধাও দেওয়া হতে পারে।
দরিদ্র ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহ, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ও সহায়ক প্রযুক্তি নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নের কথাও বলা হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার জন্য “ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব” কর্মসূচি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে।
সব মিলিয়ে আসন্ন বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হচ্ছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং ঘাটতি থাকতে পারে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।