বুধবার ৬ জুলাই ২০২২
      Beta
খোস্ত প্রদেশে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী পাক্তিকা প্রদেশে। ছবি: সংগৃহীত

ভূমিকম্পে মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়াল হাজার, আহত ১৬০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার ২৩ জুন ২০২২ ০৯:৫৪:০০ পূর্বাহ্ন | বিশ্ব

শক্তিশালী ভূমিকম্পে আফগানিস্তানে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার এই ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন আরও অন্তত এক হাজার ৬০০ জন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় হাসপাতালগুলো আশঙ্কা করছে।

এর আগে, দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী শরাফউদ্দীন মুসলিম বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, ভূমিকম্পে অন্তত ১০০০ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ১৫০০ জন।

ভূমিকম্পের মাত্রা প্রথমে ৬ দশমিক ১ মাত্রা বলা হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা -ইউএসজিএস জানায় রিখটার স্কেলে ওই মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আইয়ুবি বলেছেন, আহতদের কাছে পৌঁছানোর জন্য এবং চিকিৎসা সরবরাহ ও খাবার নিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্ধার প্রচেষ্টায় হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খোস্ত প্রদেশের রাজধানী খোস্ত থেকে ২৮ মাইল দূরের একটি স্থানে।

স্থানীয় সময় বুধবার রাত দেড়টায় এই ভূমিকম্প আঘাত হানে যখন বেশিরভাগ মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা -ইউএসজিএস জানায় ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্টের ছয় কিলোমিটার গভীরে।

শারহাদী খোস্তি নামে খোস্ত প্রদেশের স্পেরাহ জেলার এক অধিবাসী নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, বুধবার রাতে একটার দিকে তিনি ভূমিকম্প টের পান। পরে কয়েক মিনিটের মধ্যেই মাটি ও কাঠের তৈরি অসংখ্যা ঘরবাড়ি মাটিরে সাথে মিশে যেতে দেখেন।

পূর্বাঞ্চলীয় পাক্তিকা প্রদেশের  তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক রায়িস হোজাইফা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, ভূমিকম্পে এই প্রদেশের এক হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছেন। আর আহত হয়েছেন  আরও দেড় হাজারের বেশি লোক।  

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট ভূমিধসে একটি গ্রাম পুরোপুরি মাটির নিচে চাপা পড়েছে। অনেকে বলছেন, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বাড়িঘরে এখনও অনেক লোক আটকা পড়ে আছেন।

খোস্ত প্রদেশে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী পাক্তিকা প্রদেশে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবান নেতা হিবাতুল্লাহ আকুনজাদাহ জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে শত শত ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা বিভিন্ন পোস্টে ধ্বংসস্তূপ, ভেঙে পড়া বাড়িঘর এবং আহত মানুষদেরকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়ার ছবি দেখা যাচ্ছে। দুর্গম এলাকাগুলো থেকে আহতদের হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে।