সম্প্রতি দেশের বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজের অগ্রগতি দেখতে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এছাড়া সেতু প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদেরও বিভিন্ন তথ্য দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে সেতুমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, আগামী বছরের জুনের মধ্যের পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। এছাড়া মূল পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ ৯২ ভাগ সম্পন্ন এবং সার্বিক অগ্রগতি শতকরা ৮৪ ভাগ শেষ হয়েছে বলেও তিনি জানান।
কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, এই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে আরও দুই বছর সময় বাড়িয়ে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময় চাইছে সেতু মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ সংশোধনীতে সরকার সেতু চালু করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিল ২০২১ সালের জুন মাস।
নতুন করে দুই বছর প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আবেদনে করোনাভাইরাস মহামারীতে প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হওয়াকে সময় বাড়ানোর কারণ হিসেবে দেখিয়েছে।
নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে পদ্মা নদীর উপর বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণে কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এই সেতুর উপর দিয়ে গাড়ি ও ট্রেন চলাচল শুরুর লক্ষ্য থাকলেও মাঝে হানা দেয় করোনাভাইরাস মহামারী।
তবে মহামারীর মধ্যেও কাজ সচল রেখে সবগুলো স্প্যান বসানোর পর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, সেতুর নির্মাণ কাজের শতকরা ৮৪ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ২০২২ সালের জুনের মধ্যে যানবাহন চলাচল হবে।
স্বাধীনতার ৫০তম বছরের মধ্যেই সরকার পদ্মা সেতুর কাজ সম্পন্ন করে যান চলাচল শুরু করতে চায় বলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছিলেন। কিন্তু করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানায় বাস্তবায়নকারী সংস্থা।
ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান কাজী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সেতু বিভাগ চিঠি পাঠিয়েছে, আমরা পেয়েছি। কিন্তু প্রকল্পটি বর্তমানে সার্বিক কোন অবস্থায় আছে, তা দেখে আইএমইডি একটি প্রতিবেদন দেবে। তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’
কোনো প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া সংশোধন করতে চাইলে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন না করে পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ অনুমোদন করতে পারে। তাই এই প্রকল্পটিও ভৌত অবকাঠামো বিভাগ অনুমোদন দিতে পারে।
সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ী পদ্মা বহুমুখী (সড়ক-রেল) সেতু প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। সেতু বিভাগের আবেদনে মেয়াদ বাড়লেও এই ব্যয়ের মধ্যেই প্রকল্পটি শেষ হবে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সেতু বিভাগের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনের কারণ তুলে ধরে চিঠিতে বলা হয়, ‘গত বছরের মার্চ মাসে দেশে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের পর কাজ ব্যাহত হয়েছে। প্রকল্পে কর্মরত বিদেশি পরামর্শক ও চীনা ঠিকাদারের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লোকজন নিজ নিজ দেশের বিধি-নিষেধের কারণে অনেক দিন ধরে প্রকল্পে আসতে পারেননি। এছাড়াও যারা প্রকল্পের সাইটে অবস্থান করছিলেন, তাদের মধ্যেও কোভিড ভীতি সঞ্চার হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর প্রভাব পড়েছে।’
গত বছরের দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কারণে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়াও কাজে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।