রানা প্লাজা ট্রাজেডির ১৩ বছর আজ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

রানা প্লাজা ট্রাজেডির ১৩ বছর আজ

ছবি: সংগৃহীত

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভারের রানা প্লাজার ভেতরে তখন স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততা চলছিল। হাজারো পোশাক শ্রমিক প্রতিদিনের মতোই কাজে যোগ দিতে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করছিলেন। কেউই জানতেন না, কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাদের জীবনের সব স্বাভাবিকতা একসঙ্গে ধসে যাবে। হঠাৎ করেই আটতলা ওই ভবনটি কেঁপে উঠে ধসে পড়ে এবং মুহূর্তেই পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে।

দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এই শিল্প দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ১১৩৬ জন শ্রমিক, আহত হন কয়েক হাজার মানুষ। ধুলা, কংক্রিট আর চিৎকারে ভরে যায় পুরো এলাকা। উদ্ধারকাজ চলে দিনের পর দিন, তবে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ফিরে আসে শুধু নিথর দেহ আর ভাঙা স্বপ্ন।

আজ সেই ঘটনার ১৩ বছর পার হলেও স্বজনদের প্রশ্ন—বিচার কি আদৌ শেষ হবে?

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। ২০১৬ সালে শুরু হয় বিচারিক কার্যক্রম। শুরুতে দ্রুত বিচার শেষ হওয়ার আশা থাকলেও পরে তা নানা জটিলতায় দীর্ঘায়িত হয়। একের পর এক আইনি প্রক্রিয়া, উচ্চ আদালতে আবেদন এবং সাক্ষ্যগ্রহণে ধীরগতিতে মামলাটি কার্যত আটকে যায়।

মামলায় মোট ৫৯৪ জনকে সাক্ষী করা হয়, তবে এখন পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন মাত্র ১৪৫ জন। গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে বারবার নির্দেশ দেওয়া হলেও পুলিশ তাদের উপস্থিত করতে পারেনি। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আপিল বিভাগ ৬ মাসের মধ্যে মামলা শেষ করার নির্দেশ দিলেও সেটিও বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বিচার প্রক্রিয়া এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে।

এই দীর্ঘ সময়ে বদলে গেছে বহু জীবন। কেউ হারিয়েছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে, কেউ আবার আহত হয়ে আজও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। রানা প্লাজার সামনে দাঁড়ালে এখনো সেই দিনের ভয়াবহতা যেন চোখে ভেসে ওঠে।

এদিকে মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানার পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করছেন, তিনি নির্দোষ এবং তাকে অন্যায়ভাবে আটক রাখা হয়েছে।

আগামী ৩০ এপ্রিল মামলায় আবারও সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষী হাজির করতে পারলে মামলাটি নিষ্পত্তির দিকে এগোবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে রানা প্লাজা ধসে নিহতদের স্মরণে শুক্রবার সকালে আহত শ্রমিক, নিহতদের স্বজন, শিল্প পুলিশ ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তারা ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

দিবসটি উপলক্ষে সকালেই শ্রমিক সংগঠনগুলো বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করে।

Link copied!