জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন খলিলুর রহমান

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ৩, ২০২৬, ১২:০৫ এএম

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন খলিলুর রহমান

ড. খলিলুর রহমান | ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বর্তমান সভাপতি, জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হবেন এবং আগামী এক বছর এ দায়িত্ব পালন করবেন।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস. কাকোরিসকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করেন ড. খলিলুর রহমান।

জানা যায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনে মোট ১৯০টি সদস্য রাষ্ট্র অংশ নেয়। এর মধ্যে ড. খলিলুর রহমান ৯৯টি ভোট লাভ করেন, আর তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী আন্দ্রেয়াস এস. কাকোরিস পান ৯১টি ভোট।

ড. খলিলুর রহমানের বিজয় নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও।

জাতিসংঘের প্রচলিত আঞ্চলিক রোটেশন পদ্ধতি অনুযায়ী ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদটি এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের জন্য নির্ধারিত ছিল। এ পদে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে ড. খলিলুর রহমান এবং সাইপ্রাসের প্রার্থী হিসেবে আন্দ্রেয়াস এস. কাকোরিস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এই বিজয়ের মাধ্যমে প্রায় চার দশক পর আবারও বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেন। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রায় চার বছর আগে থেকেই কূটনৈতিক প্রচার শুরু করেছিল। প্রথমে ফিলিস্তিন এ পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করলেও পরে তারা তা প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি প্রতি বছর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটে নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রত্যেকটির একটি করে ভোটাধিকার থাকে এবং সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী প্রার্থী সভাপতি নির্বাচিত হন।

Link copied!