দিল্লির বিমানবন্দরে কী ঘটেছে, জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ১৬, ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম

দিল্লির বিমানবন্দরে কী ঘটেছে, জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, তাকে সেখানে আটকে রাখা হয়নি; একটি জায়গায় বসতে দেওয়া হয়েছিল। পরে আন্তরিকতার সঙ্গে ভারতে প্রবেশের অনুরোধ জানানো হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

আজ (মঙ্গলবার) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে তথ্য অধিদফতরে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দিল্লিতে হেনস্থার অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সেখানে আমাকে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। একটা জায়গায় বসতে দেয়া হয়েছিল। ওখানে কোনো রুমে নিয়ে আটকে রাখা হয়েছে, এটা একদম ভুল কথা।

এ ঘটনায় ভারতের পক্ষ থেকে ভুল স্বীকার করা উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখছে। বিষয়টি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমেই বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার হয়েছে বলব না, তবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে আমার সঙ্গে যে ট্রিট করার কথা ছিল, সেটি করা হয়নি। সিচুয়েশনটাকে বেশি খারাপ করতে চাইনি। সেই বার্তাও দিয়েছি। আমরা পুরো প্রতিনিধি দলকে প্রত্যাহার করতে পারতাম, সেটি করা হয়নি।’
তিনি আরও বলেন,

আমার সঙ্গে যে আচরণ হয়েছে তার একটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হয়েছে সেদিন। তবে এরপরেও ভারত যথাযথ আমন্ত্রণ জানালে আমি আবারও দেশটিতে যাব।

ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) সম্মেলনে অংশ নিতে ডা. জাহেদ উর রহমানের দিল্লি সফরের কথা ছিল। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে তার অংশগ্রহণের বিষয়ে গত শুক্রবার (১২ জুন) দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে।

তবে রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখে। এ সময় তাকে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্টতা দেওয়া হয়নি।

পরিস্থিতিকে আত্মসম্মানের প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করে তিনি পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে বারবার ভারতে প্রবেশের অনুরোধ জানালেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

সফরের বিষয়টি কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে আগাম জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের ঘটনায় তিনি ভারত ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

রোববার রাতেই এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে তিনি কলম্বোর উদ্দেশে রওনা হন। সোমবার (১৫ জুন) ভোরে কলম্বো পৌঁছানোর পর সকাল ৮টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। পরে বেলা পৌনে ১২টার দিকে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

Link copied!