ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস বলেছেন,টিআইবিকে অর্থায়ন করছে অস্ট্রেলিয়ান ফার্ম বিপিএইচ। প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশের ক্ষতি করার জন্য বার বার জরিমানার সম্মুখীন হয়েছে। আপনারা তাদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন কেন?” আমাদের খালি চোর বলবেন, এটা তামাশা পাইছেন নাকি আপনারা? শুধু বাংলাদেশকে চোর বলবেন, এটা কি ফাইজলামি নাকি?’
শনিবার রাজধানীর এফবিসিসিআই সম্মেলন কক্ষে ‘এলডিসি পরবর্তীতে রপ্তানির চ্যালেঞ্জ: বেসরকারি খাতের জন্য বিকল্প’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুখ্য সচিব বলেন, “ঈমানের সঙ্গে কাজ করার পরেও ঈমান ধরে টানাটানি করলে বুকের মধ্যে খুব লাগে।তারা (টিআইবি) বলছে- কোভিড-১৯ এর প্রতিটি টিকা কেনায় আমাদেরকে ৬৯ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। অথচ এসব টিকা কেনায় এডিবি, বিশ্ব ব্যাংক জড়িত ছিল।”
সরকারের চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি’র সাম্প্রতিক অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, ‘ওনারা (সিপিডি) বললেন, আমাদের বৃহৎ বৃহৎ প্রকল্পে দুর্নীতি হচ্ছে। আমাদের কোন প্রকল্প নিজেদের অর্থায়নে হচ্ছে বলেন? মাতারবাড়ি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গভীর সমুদ্র বন্দর হচ্ছে জাইকার অর্থায়নে। এর প্রত্যেকটি ট্রানজেকশন হচ্ছে জাইকার মাধ্যমে। তাহলে কি আমাদের দুর্নীতির পার্টনার জাইকা?’
টিআইবি ও সিপিডির উদ্দেশে আহমদ কায়কাউস আরও বলেন, ‘ আপনারা সবসময় আমাদেরকে দুর্নীতিবাজ বানাই দিচ্ছেন, হোয়াট ইজ দিস? ডোন্ট উই হ্যাভ আওয়ার ওন প্রাইড? উই আর সান অব দিস সয়েল। উই হ্যাভ ডান আওয়ার জব অ্যান্ড উই হ্যাভ মেইক দিস কান্ট্রি, অল অব আস।”
সরকারি অফিসগুলোতে নিম্ন পর্যায়ে কিছুটা দুর্নীতি থাকলেও উপরের পর্যায়ে দুর্নীতি নেই বলে দাবি করেন আহমদ কায়কাউস। আবেগতাড়িত হয়ে কথা বলায় একপর্যায়ে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ঈমানের সঙ্গে কাজ করার পরে যদি ঈমান ধরে টানাটানি করেন, তখন কিন্তু বুকের মধ্যে লাগে।’
সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো.সিরাজুল ইসলাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শরিফা খান, এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।