ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’–সংক্রান্ত গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফলও গেজেটভুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এই দুটি গেজেট ইস্যু করেন। প্রকাশিত গেজেটে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামের পাশাপাশি তাঁদের পিতা বা স্বামীর নাম, মাতার নাম এবং স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে। গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে এখন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলো।
এর আগে বৃহস্পতিবার সারাদেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে নির্বাচন স্থগিত ছিল।
এছাড়া আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়। ফলে গেজেটে ২৯৭টি আসনের ফল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নির্বাচনের বেসরকারি ফল অনুযায়ী, ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। স্থগিত থাকা দুই আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন বলে ইসি সূত্রে জানানো হয়েছে। বিএনপির জোটসঙ্গীদের মধ্যে বিজেপি, গণঅধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলন মিলিয়ে তিনটি আসনে জয় পেয়েছে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের শরিক দলগুলো জয় পেয়েছে আরও ৯টি আসনে। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসনে জয়ী হয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।
ইসির পৃথক গেজেট অনুযায়ী, গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন ভোটার। বিপক্ষে ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি। এ ছাড়া গণভোটে বাতিল ব্যালটের সংখ্যা ছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি।
সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর বিধান রয়েছে। তবে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার পদে শূন্যতা থাকায় শপথ পাঠ করাতে পারেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অথবা রাষ্ট্রপতির মনোনীত কোনো ব্যক্তি। সংবিধানের ১৪৮ (২)(ক) অনুচ্ছেদে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ইসি সূত্র বলছে, শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হলেই নতুন সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।