মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সদর উপজেলার চরআব্দুল্লাহ গ্রামে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক জসিম উদ্দিন (৩০) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যরা আহত হয়েছেন। এছাড়া পৃথক ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পূর্ববিরোধ ও নির্বাচনি দ্বন্দ্বের জেরে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের বড় ভাই মসিউর নায়েব অভিযোগ করেন, ধানের শীষের নেতা শাকিল দেওয়ানের লোকজন গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে তাদের বাড়িতে ঢুকে তাকে, তার বাবা ও ভাইদের নির্মমভাবে পেটায়। পরে তাদের তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে গতকাল সন্ধ্যায় জসিমের মৃত্যু হয়।
নিহত জসিম উদ্দিন ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থক ছিলেন। অভিযুক্ত শাকিল সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।
পুলিশ জানায়, জসিম উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন ফুটবল প্রতীকের সমর্থক ছিলেন। ওই গ্রামের ধানের শীষের সমর্থক শাকিল গতকাল বিকেল ৩টার দিকে ৫০-৬০ জনের একটি দল নিয়ে জসিমের বাড়িতে যান। তারা জসিম উদ্দিন, তার বাবা মাফিক নায়েব, ভাই মোখলেস নায়েব ও মহসিন নায়েবকে পিটিয়ে আহত করেন। গুরুতর অবস্থায় ২ ভাই জসিম ও মোখলেস এবং বাবা মাফিক নায়েবকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় জসিম মারা যান।
মসিউর নায়েব আরও বলেন, ‘আমরা ফুটবল প্রতীকের নির্বাচন করেছিলাম। এটাই আমাদের একমাত্র দোষ ছিল। আমরা কখনও কারও সঙ্গে কোনো অন্যায় করিনি। কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতাও ছিল না। নাসির ডাক্তার ও তার ছেলে শাকিলরা আমার ভাইকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।’
এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শাকিল বলেন, ‘সকালে জসিম উদ্দিনদের লোকজন আমাদের সমর্থকদের ওপর হামলা করে। পরে আমি এ ঘটনায় অভিযোগ করতে থানায় যাই। তখন জসিম ও তার লোকজন এলাকা থেকে বের হয়ে যেতে পুনরায় আক্রমণের প্রস্তুতি নেন। পরে এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে জসিমদের মারধর করেছে। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।’
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম জানান, পূর্ববিরোধ এবং নির্বাচনি দ্বন্দ্বের জেরে এই ঘটনা। অপরাধীদের আটকের ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আরও ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রতন। তিনিই মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। দলের মনোনয়ন না পেয়ে ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।