ডিসেম্বর ১১, ২০২১, ০২:৩২ পিএম
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও এর সাবেক ও বর্তমান ৭ কর্মকর্তার ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারকে ডেকে ব্যাখা চাওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
শনিবার (১১ ডিসেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘চির অম্লান বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার প্রধানকে যুক্ত করা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন একটা ঢং। র্যাবের কারণে জঙ্গি ও সন্ত্রাসমুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। র্যাবের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের আস্থা রয়েছে।মার্কিন যুত্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞা দুঃখজনক।”
তিনি বলেন, “ আমি আমেরিকান রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠিয়েছি। আমার পররাষ্ট্র সচিব ওনার সাথে কথা বলেছেন। তিনিও (মার্কিন রাষ্ট্রদূত) অনেকটা সারপ্রাইজডের মতো হয়েছেন।”
যেকোনো অভিযোগ তথ্যভিত্তিক হওয়া উচিত মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১০ বছরে ৬০০ লোক মারা গেছেন, তা ঢালাওভাবে বলা ঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ, যেখানে পরিপক্ব গণতন্ত্র রয়েছে, তাদের কাছ থেকে এমন ঢালাও অভিযোগ কাম্য নয়। কারণ, তাদের দেশে প্রতিবছর ছয় লাখ লোক নিখোঁজ হন।”
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব পড়বে কিনা-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ বিষয়টি নির্ভর করবে নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে তাদের আচরণের ওপর। সো উই ডোন্ট নো। উই হ্যাভ টু লুক ইনটু ইট।”
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনে যুক্ত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও ওয়েব সাইটে প্রকাশিত নিষেধাজ্ঞার তালিকায় বাংলাদেশের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সাবেক প্রধান ও পুলিশের বর্তমান মহাপরিদর্শক বেনজির আহমদ, র্যাবের বর্তমান মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, খান মোহাম্মদ আজাদ, মোহাম্মদ আনোয়ার লতিফ খান এবং তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ারের নাম রয়েছে।
এদিকে, শনিবার অন্য একটি অনুষ্ঠানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মার্কিন অভিযোগ অস্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, “ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করা হয়। কোনো সংস্থার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অতিরঞ্জিত সংবাদের ওপর ভিত্তি করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আমাদের কোনো সংস্থা মানবাধিকার লঙ্ঘন করে না। করলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা চ্যালেঞ্জিং দাবি করে আসাদুজ্জামান খান কামাল আরও বলেন, “মাদক কারবারিরা নিজেদের রক্ষা করার জন্য আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। দেশের প্রশিক্ষিত বাহিনী অভিযান চালালে তারা অস্ত্র ব্যবহার করায় গোলাগুলি ও হতাহতের ঘটনা ঘটে।”