ছবি: সংগৃহীত
দেশজুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষার কার্যক্রম জোরদার করতে প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। রবিবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে নিয়োগের যোগ্যতা ও সনদ সংক্রান্ত কিছু জটিলতা রয়েছে, যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব সমস্যা কাটিয়ে শিগগিরই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী জানান, এ নিয়োগের ক্ষেত্রে কারিআনা পাসধারীদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের শিক্ষকদের নিয়োগের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে সরকারি দলের সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা খাতকে শক্তিশালী করতে বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পাঁচটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (ডিইপিডি-৪), যা ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন। এছাড়া চাহিদাভিত্তিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প (প্রথম পর্যায়) ২০১৬ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলমান রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, রাজধানী ঢাকা ও পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও নান্দনিকতা বাড়াতে একটি পৃথক প্রকল্প ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এছাড়া কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলা এবং নোয়াখালীর ভাসানচরে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত চলবে বলে জানান তিনি।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ১৫০টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কর্মসূচি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাধ্যমে দেশের ৫৮টি জেলায় ‘কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক দক্ষতা প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক একটি কোর্স পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের বিকল্প শিক্ষার সুযোগ দিতে ‘স্কুলবহির্ভূত শিশুদের জন্য বিকল্প শিক্ষা কার্যক্রম (এএলও)’ নামে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি একনেক সভায় অনুমোদন পেয়েছে এবং এটি ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে।