মে ১, ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মুখোমুখি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। একই সময়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নতুন করে প্রাণহানির ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এতে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এর আগে ওয়াশিংটনে দুই দফা বৈঠকে বসেছিল ইসরাইল ও লেবাননের প্রতিনিধিরা যা কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম এমন উদ্যোগ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতায় এপ্রিলের মাঝামাঝি যুদ্ধবিরতি শুরু হয় এবং পরে তা বাড়ানো হয়। তিনি জানিয়েছেন, শিগগিরই জোসেফ আউন ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু–কে একসঙ্গে আলোচনায় বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে সম্ভাব্য এই সংলাপ নিয়ে লেবাননের অভ্যন্তরেই মতভেদ তৈরি হয়েছে। ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহ সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নিরস্ত্রীকরণ সম্পর্কিত পূর্ব প্রতিশ্রুতিও মানতে নারাজ বলে জানিয়েছে।
এদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট আউন বলেছেন, কোনো আলোচনায় যাওয়ার আগে ইসরাইলকে পুরোপুরি যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে হবে। তার অভিযোগ, হামলা বন্ধ না হয়ে বরং বাড়ছে বসতবাড়ি, উপাসনালয় ও বেসামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
মাঠের পরিস্থিতিও উত্তপ্ত। সীমান্তবর্তী এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে তারা একাধিক স্থানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে লেবাননের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, তারা কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ বা ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে রাজি নন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক চাপ বাড়ালেও মাঠের বাস্তবতা বলছে, যুদ্ধবিরতি এখনো ভঙ্গুর। সরাসরি সংলাপ আদৌ উত্তেজনা কমাতে পারবে কি না তা নিয়েই এখন প্রশ্ন রয়ে গেছে।