রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন: সংসদে নাহিদ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম

রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন: সংসদে নাহিদ

রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বক্তব্য আমি শুনিনি, এ নিয়ে কিছু বলার আগ্রহ আমার নেই। তবে রাষ্ট্রপতির কিছু কুকীর্তি এ হাউজের সামনে তুলে ধরতে চাই।

তিনি অভিযোগ করেন, শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে দুদকের কমিশনার করা হয়েছিল তিনটি নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে—খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তি নিশ্চিত করা, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনচিট দেওয়া এবং ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দীনের আমলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলা থেকে শেখ হাসিনা ও দলের নেতাদের মুক্তি দেওয়া। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি এখনও রাষ্ট্রপতি হিসেবে রেখেছে। এটি বিএনপির দেওলিয়াত্ব। আমাদের দুর্ভাগ্য এই দুর্নীতিবাজ, মিথ্যুক, অপদার্থ এখনও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আমাদের হাতে দুটি অপশন ছিল, জাতীয় সরকার করতে চেয়েছি, কিন্তু বিএনপি সেটি মানেনি। আরেকটি অপশন ছিল, সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়া। সেটা হলে বিএনপি এখনও ক্ষমতায় আসতে পারতো না।

রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংবিধানের ধারাবাহিকতার কথা বলে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণে বাধা দিয়েছে বিএনপি। এখন তো সাংবিধানিক সংকট নেই। তাহলে কেন এখন তাকে অপসারণ করা হচ্ছে না।

সংবিধান নিয়ে আলোচনায় তিনি বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানকে অনেকে একাত্তরের সাথে মিলিয়েছেন। কিছু কিছু সদস্য এটি করেছে। এটা তো আওয়ামী লীগ মেলাতো। বাহাত্তরের সংবিধানকে একাত্তরের ফসল মনে করতো। বাহাত্তরের মূলনীতিকে একাত্তরের মূলনীতি হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে। আমরা সবসময় এর বিরোধিতা করেছি। বিএনপির বহু নেতা এর বিরোধিতা করেছে।

তিনি আরও বলেন, ৭২ এর সংবিধান রচনা করেছে, সত্তর এ যারা নির্বাচিত হয়েছিল যারা পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র নির্বাচন করেছিল। এটা ইনহেরেনটলি আনডেমোক্রেটিক সংবিধান। একজন ব্যক্তির হাতে সমস্ত ক্ষমতা দেয়ার সংবিধান। শেখ মুজিবকে সামনে রেখে এ সংবিধান করা হয়েছিল, যাতে করে তার হাতে নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ, এমনকি বিচার বিভাগের ক্ষমতাও কায়দা করে তার হাতে দেয়া হয়েছে।

সংবিধানের আদর্শ নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, এটা মুজিববাদী আদর্শের সংবিধান। একাত্তরের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার এর পরিবর্তে বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাকে যুক্ত করা হয়েছে। এটার বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তার হাতে সুযোগ ছিল, গণপরিষদ নির্বাচন করে এদেশের মানুষের মাধ্যমে সংবিধান রচনা করার, তিনি সেটা করেননি।

সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে যখন সংস্কারের আলোচনা আসলো। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে আমরা বলেছিলাম, আমরা নতুন সংবিধান চাই, সংবিধান পুনরলিখন চাই। বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচনে মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়। পাঁচ আগস্টের পর থেকেই আমাদের পথ আলাদা হয়ে যায়।

তিনি আরও যোগ করেন, তখন আমরা একটা মধ্যমপন্থা আসি। সেখান থেকে অকামত কমিশন সংবিধান সংস্কার এসবের আলোচনা হয়। সংবিধান সংস্কার পরিষদ করার কথা গণভোটের আলোকে। এখন বিএনপি যদি সে জায়গা থেকে সরে যায়, আমাদেরকেও পূর্বের জায়গায় ফেরত যেতে হবে আমরা নতুন সংবিধান অথবা সংবিধান পুনর লিখন চাই।

জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই সনদ যেদিন স্বাক্ষর করা হয়েছিল আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি সেদিন স্বাক্ষর করিনি। পরবর্তীতে তো আমরা স্বাক্ষর করেছি সেটা বলা যায় না, সেখানে আমরা আমাদের মতামত দিয়ে এসেছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অনেক কষ্টের ফসল জুলাই জাতীয় সনদকে নোট অফ ডিসেন্ট দিয়ে কলুষিত করা হয়েছে।

Link copied!