আর্থিক প্রতিবেদনের ঘাটতি, ৫৬ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মার্চ ১১, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

আর্থিক প্রতিবেদনের ঘাটতি, ৫৬ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

দেশের অধিকাংশ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি না হওয়ায় হিসাব ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এখনো সঠিক আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত না করেই আয়-ব্যয়ের হিসাব পরিচালনা করছে।

ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) দেশের ৫৬টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব ও নিরীক্ষা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে এমন চিত্র পেয়েছে। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিতভাবে পূর্ণাঙ্গ বার্ষিক আর্থিক বিবরণী তৈরি করে না। ফলে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, দায়-দেনা বা প্রকৃত আর্থিক অবস্থার স্পষ্ট কোনো চিত্র পাওয়া যায় না।

প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পার করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো প্রচলিত বৈজ্ঞানিক হিসাব পদ্ধতি অনুসরণ করে না।

এফআরসির বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের ৫৬টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১০টির আইনে বহিঃনিরীক্ষার মাধ্যমে বার্ষিক আর্থিক বিবরণী যাচাইয়ের বিধান রয়েছে। বাকি ৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই।

আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে উদ্যোগ নিয়েছে ইউজিসি। সংস্থাটির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম জানান, বর্তমানে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যালেন্স শিট বা পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। ফলে সরকারি অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে তা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানে ইউজিসির একটি প্রকল্পের আওতায় সমন্বিত হিসাব সফটওয়্যার তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একই পদ্ধতিতে আর্থিক তথ্য সংরক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরি করতে পারবে।

এফআরসি জানিয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে বহিঃনিরীক্ষার চর্চা তুলনামূলকভাবে ভালো। তবে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক বহিঃনিরীক্ষা চালুর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছে সংস্থাটি।

Link copied!