প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রতি ৫ জনে একজনের উচ্চ রক্তচাপ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মার্চ ৩১, ২০২২, ০৯:২৫ পিএম

প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রতি ৫ জনে একজনের উচ্চ রক্তচাপ

বাংলাদেশে প্রতি ৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। আর  উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হয়েও দেশের ৫১ শতাংশ নারী এবং ৬১ শতাংশ পুরুষ জানতে পারেন না। 

রাজধানীর প্ল্যানারস টাওয়ারে ‘হাইপারটেনশন অ্যান্ড হার্ট হেলথ’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সাংবাদিক কর্মশালায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য জানান।

বিশ্বে প্রতি বছর ১ কোটিরও বেশি মানুষ উচ্চ রক্তচাপের কারণে মারা যায়। যা সব সংক্রামক রোগে মোট মৃত্যুর চেয়েও বেশি।

বাংলাদেশ এনসিডি স্টেপস সার্ভে-২০১৮ এর তথ্য দিয়ে জানানো হয়, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের মধ্যে ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে প্রতি ৭ জনে একজনেরও কম। 

গ্লোবাল বারডেন অব ডিজিজ স্টাডি-২০১৯ এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মৃত্যু এবং পঙ্গুত্বের প্রধান তিনটি কারণের একটি উচ্চ রক্তচাপ। দেশে উচ্চ রক্তচাপ বিষয়ে প্রশিক্ষিত কর্মী রয়েছে মাত্র ২৯ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে। তবে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সরকারের বেশকিছু নীতি ও কর্মপরিকল্পনা থাকলেও এ বিষয়ে দেশব্যাপী উল্লে­খযোগ্য কোনো কর্মসূচি নেই।

এ বিষয়ে গণসচেতনতা তৈরি, ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে হবে। কারণ উচ্চ রক্তচাপের কারণে হৃদরোগ এবং হৃদরোগজনিত মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। 

আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহায়তায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) কর্মশালাগুলো আয়োজন করে। কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত ৫১ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, রক্তচাপ যদি স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অনেক বেড়ে যায় তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলে। অর্থাৎ রক্তচাপের মাত্রা দুইটি ভিন্ন দিনে ১৪০/৯০ মি.মি. পারদচাপ বা তার বেশি হলে বুঝতে হবে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে। তবে বয়স ভেদে রক্তচাপ কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে। অধিকাংশ সময় উচ্চ রক্তচাপের নির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ এবং উপসর্গ থাকে না। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সকালের দিকে মাথা ব্যথা, নাক দিয়ে রক্তপরা, হৃৎপিণ্ডের অনিয়মিত ছন্দ, দৃষ্টিতে পরিবর্তন এবং কানে গুঞ্জন অনুভূতি প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। 

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জনস্বাস্থ্য অনুবিভাগ) সৈয়দ মজিবুল হক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (এনসিডিসি প্রোগ্রাম) লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মো. রোবেদ আমিন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী।

Link copied!