‍‍‍‍"অপারেশন এপিক ফিউরি‍‍‍‍" শেষ, ইরানে হামলা বন্ধের ঘোষণা রুবিওর

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ৪, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

‍‍‍‍

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করছেন সামরিক অভিযান সফলভাবে শেষ হয়েছে, অন্যদিকে বিরোধী ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা বলছেন মাঠের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছে।

বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে শুনানিতে রুবিও জানান, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ‍‍`অপারেশন এপিক ফিউরি‍‍` এখন সমাপ্ত এবং যুক্তরাষ্ট্র আর ইরানের ভূখণ্ডে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে না। তিনি বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা কমিয়ে আনা, ড্রোনের মজুত ধ্বংস করা এবং দেশটির বিমান ও নৌবাহিনীকে দুর্বল করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার সবটুকুই পূরণ হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে প্রথম হামলা চালানোর পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান আঞ্চলিক মার্কিন মিত্রদের ওপর আঘাত হানে এবং পারস্য উপসাগরের প্রাণকেন্দ্র হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা দেয়।

তবে রুবিওর বক্তব্যকে মোটেই স্বাভাবিকভাবে নেননি বিরোধী আইনপ্রণেতারা। ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেসওম্যান সারা জ্যাকবস সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, "অভিযানের নাম বদলালেই পরিস্থিতি বদলায় না। হরমুজ প্রণালি এখনও বন্ধ, আমাদের সেনারা এখনও ঝুঁকিতে।" তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ওই একই বুধবার ইরানের হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একজন নিহত ও ৬৩ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা বাহরাইনেও রাতভর ড্রোন হামলার খবর মিলেছে।

কূটনৈতিক ময়দানেও পরিস্থিতি জটিল রয়ে গেছে। রুবিও জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত প্রশ্নটি এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। তাঁর মতে, শান্তিচুক্তির কাঠামোয় ইরানকে অস্ত্রমানের কাছাকাছি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে, পারমাণবিক কার্যক্রমে বিধিনিষেধ মানতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে হবে। দুই পক্ষের মধ্যে নথি আদান-প্রদান হলেও বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ইরানের চূড়ান্ত সম্মতি মেলেনি।

অপর দিকে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যেকোনো অর্থবহ আলোচনার আগে তাদের জব্দ করা প্রায় বারো শ কোটি ডলারের সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সংকট নিরসনের পথ এখনও বন্ধুর।

Link copied!