ছবি: সংগৃহীত
সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর ওরফে এসকে সুর চৌধুরীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ (মঙ্গলবার) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক আয়েশা নাসরিন এ রায় ঘোষণা করেন।
দুদকের প্রসিকিউটর এস.এম. আবুল কালাম (আজাদ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১৫ জুলাই রায়ের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন আদালত।
রায়ের দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এসকে সুরকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পৌনে ১টার দিকে তাকে এজলাসে তোলা হলে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। এরপর আদালত রায় ঘোষণা করেন।
তিন বছরের সাজার রায় ঘোষণার পর বিস্ময় প্রকাশ করে এস কে সুর বলেন, “তিন বছরের সাজা! এই মামলায় না এক বছরের সাজা?”
রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ১৫ জুলাই যুক্তিতর্কে দুদক প্রসিকিউটর আবুল কালাম (আজাদ) আসামির সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সরোজ কুমার হাওলাদার খালাস প্রার্থনা করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে এস কে সুরের নিজের এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের স্বনামে বা বেনামে অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎস এবং সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত তথ্য দাখিলের জন্য তাকে সম্পদের হিসাব বিবরণীর নোটিশ দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর তিনি নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশসহ সম্পদ বিবরণীর ফরম গ্রহণ করেন। তবে আদেশ পাওয়ার পর নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তিনি সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করেননি।
পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর এস কে সুর, তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী এবং কন্যা নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন।
গত বছরের ২৫ আগস্ট মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক মো. আহসান উদ্দিন। পরে গত বছরের ৬ নভেম্বর এস কে সুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
মামলার বিচার চলাকালে আদালত সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এই ডেপুটি গভর্নরকে গ্রেপ্তার করে দুদক। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।