কিরগিজস্তানে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন পুতিন ও সি চিনপিং

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ৩১, ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম

কিরগিজস্তানে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন পুতিন ও সি চিনপিং

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংসহ এক ডজনের বেশি দেশের নেতা সোমবার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে জড়ো হচ্ছেন। দুই দিনের এই সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি পশ্চিমা প্রভাবের বাইরে একটি বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)।

এবার সংগঠনটির ২৫ বছর পূর্তি হচ্ছে। রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, মধ্য এশিয়ার চার দেশ ও বেলারুশ সব মিলিয়ে এসসিওর পূর্ণ সদস্য ১০টি দেশ। সংগঠনটির সঙ্গে সংলাপ অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতারসহ আরও ১৫টি দেশ। আফগানিস্তান ও মঙ্গোলিয়া রয়েছে পর্যবেক্ষক হিসেবে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

রোববার বিশকেকে পৌঁছে সি চিনপিং কিরগিজস্তানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ককে ‘সোনালি সময়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়ার প্রভাবাধীন মধ্য এশিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাবও ক্রমেই বাড়ছে।

সম্মেলনে কিরগিজ প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের সভাপতিত্বে পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পুতিন, সি চিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অংশ নেবেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানেরও সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। যদিও তুরস্ক এসসিওর পূর্ণ সদস্য নয়।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, সম্মেলনের ফাঁকে পুতিন চীনের প্রেসিডেন্ট সি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইরানকে ঘিরে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এবারের সম্মেলনের গুরুত্বও বেড়েছে। রাশিয়া ও ইরান দুই দেশই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপে রয়েছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের মধ্যে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার হয়েছে। একই সময়ে চীন ও ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক উত্তেজনাও চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও চীনকে ইরানে অস্ত্র সরবরাহ না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। চলতি মাসে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানের ওপরও ওয়াশিংটন নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এতে স্বর্ণ, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সম্পদ, বিমান চলাচল ও সমুদ্র পরিবহন খাতকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা চীন এসব পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় নিজেদের স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষার কথা জানিয়েছে। ২০২৩ সালে এসসিওর পূর্ণ সদস্য হওয়া তেহরানও দীর্ঘদিনের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপ মোকাবিলায় এই জোটের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ হাসান নাজমি এএফপিকে বলেন, তেহরান মনে করে, এসসিওর মতো জোটে সদস্যপদ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কিছুটা এড়ানো সম্ভব হতে পারে। তবে সংকটের সময়ে এই জোট ইরানকে বাস্তবে কতটা সহায়তা করতে পারবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়েছে।

এসসিওর যাত্রা শুরু হয়েছিল মূলত অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিয়ে। তবে মস্কো ও বেইজিংয়ের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংগঠনটি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুতেও আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সম্মেলনে পুতিন ও সি পশ্চিমা দেশগুলোর নীতির সমালোচনা করে আসছেন এবং বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন ঘোষণায় বলা হয়েছে, এসসিও কোনো তৃতীয় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গঠিত জোট নয়। কিন্তু সদস্য দেশগুলোর কয়েকটি বর্তমানে সরাসরি যুদ্ধ বা সংঘাতের সঙ্গে জড়িত। ইউক্রেন ও ইরানের সংঘাতের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতিকে ঘিরে চীন ও ভারতের সঙ্গেও ওয়াশিংটনের টানাপোড়েন রয়েছে।

এসসিওর দাবি, জোটভুক্ত দেশগুলোতে বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বসবাস করে এবং বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ এই দেশগুলোর। তবে সদস্যদের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। মধ্য এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার নিয়েও রাশিয়া ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে।

প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ মধ্য এশিয়া একই সঙ্গে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যপথ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বিশকেকের এবারের সম্মেলনে পশ্চিমা প্রভাবের বাইরে আঞ্চলিক সহযোগিতার পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের মধ্য এশিয়াকেন্দ্রিক স্বার্থও বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

Link copied!