আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কয়েক দিন পরও ২ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের উদ্ধারে শনিবারও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত বুধবার হিমালয় অঞ্চলে হঠাৎ নেমে আসা বন্যার স্রোতে পানি, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ ভয়াবহ গতিতে বিভিন্ন জনবসতির ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়।
শুক্রবার পর্যন্ত ২ হাজার ৪০০ এর বেশি মানুষ নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। উদ্ধারকারী দল এ পর্যন্ত ৫৮৬টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া কয়েকজনের মরদেহ নেপাল থেকে অনেক দূরে ভারতের বিভিন্ন নদীতেও পাওয়া গেছে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিখোঁজের তালিকায় নতুন করে ৯৩৩ জন জলবিদ্যুৎকর্মীর নাম যুক্ত করেছে। এর আগে তালিকায় ট্রেকার ও তিব্বতের কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রায় যাওয়া ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
দুর্যোগ থেকে বেঁচে ফেরা মানুষের অনেকেই জানিয়েছেন, মুহূর্তের মধ্যে তাদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ ভেসে গেছে। এখন নিখোঁজ স্বজনদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাদের।
বুদ্ধি রাম দাঙ্গোল নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা এএফপিকে বলেন, নদীর কাছের সব বসতি বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। সেখানে এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আর সামঝানা থিং জানান, নিখোঁজ ভাইয়ের কোনো খবর পাওয়ার আশায় তিনি তিন দিন ধরে অপেক্ষা করছেন।
রেড ক্রস জানিয়েছে, ভয়াবহ এই দুর্যোগে প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। এতে মানুষের ওপর গুরুতর শারীরিক ও মানসিক আঘাত নেমে এসেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জীবিতদের উদ্ধারে অভিযান চললেও অনেক জায়গায় খাবার ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কা উদ্ধারকাজকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
বন্যার প্রবল স্রোতে বিভিন্ন স্থানে বরফ ও কাদা জমে বড় জলাধারের মতো পানি আটকে আছে। এর মধ্যে একটি জলাধার উদ্ধারকর্মীদের জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কায় নেপালের পুলিশ উদ্ধারকর্মীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
চীনের তিব্বত অংশেও নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গিরং এলাকায় দুই গ্রামবাসীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
নেপাল সীমান্তের ত্রিশূলী-৩ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গে কয়েকজন আটকা পড়েছেন বলে শনাক্ত করেছে নেপালি সেনাবাহিনী। তাদের উদ্ধারে সুড়ঙ্গে প্রবেশের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
নেপালি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত বলেন, দুটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। তবে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথগুলোও ঠিকমতো শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় উদ্ধারকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এলাকা থেকে প্রায় ৩৫০ শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে আরও শতাধিক মানুষ আটকা থাকায় তাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
শ্রমিকদের কয়েকজন জানান, ত্রিশূলী উপত্যকায় পরিস্থিতি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভয়াবহ রূপ নেয়। বুদ্ধ তামাং নামে এক শ্রমিক জানান, বন্যার সময় তিনি একটি সুড়ঙ্গের ভেতরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে থাকার পর বৃহস্পতিবার হেলিকপ্টারে তাকে উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার নেপাল সরকার জানিয়েছে, দেশটিতে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯ হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ১ হাজার ৯২৪ জনের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
তাদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক।
এদিকে ভারতের কর্তৃপক্ষ নেপাল থেকে প্রবাহিত নদীগুলোতে সাতটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। বন্যার স্রোতে ভেসে যাওয়া ব্যক্তিদেরই এসব মরদেহ বলে ধারণা করা হচ্ছে।