ভারী বৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়ায় নেপালে জলবিদ্যুৎকর্মীদের উদ্ধার অভিযান ব্যাহত

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ৩০, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

ভারী বৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়ায় নেপালে জলবিদ্যুৎকর্মীদের উদ্ধার অভিযান ব্যাহত

ছবি: সংগৃহীত

নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে টানেলের ভেতর আটকে পড়া জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীদের উদ্ধারে তৎপরতা চালাতে গিয়ে নতুন করে প্রতিকূলতার মুখে পড়েছেন উদ্ধারকারীরা। রাতভর ভারী বৃষ্টি ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় রোববার উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়।

কাঠমান্ডু থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

নেপাল সরকার জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একাধিক টানেলে শতাধিক শ্রমিক এখনো আটকা পড়ে থাকতে পারেন। তাদের উদ্ধারে ত্রিশূলী-৩এ ও ৩বি প্রকল্প এলাকায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে কাদা ও ধ্বংসাবশেষের ভয়াবহ স্রোত নেমে আসার পর থেকে ৯৩৩ জন জলবিদ্যুৎকর্মীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্প এলাকায় শনিবার সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারীরা ড্রিল মেশিনের সাহায্যে কাদায় চাপা পড়া একটি টানেলের ওপরের অংশে পৌঁছান। এরপর সেখানে বাতাস প্রবেশ করানোর পাশাপাশি ক্যামেরা পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে রাতভর বৃষ্টি এবং নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় কাজ এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানের পঞ্চম দিনে রাত ২টার পর ভারী বৃষ্টিতে নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে উদ্ধারকারীদের খনন করা স্থানও পানিতে তলিয়ে যায়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের প্রকাশ করা ছবিতে উদ্ধারকারীদের কাদা ও বন্যায় সরে আসা বড় বড় পাথরের মধ্য দিয়ে এগোতে দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও উদ্ধারকারীরা রাতভর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে উন্নত প্রযুক্তির অনুসন্ধান ক্যামেরা ও বিশেষায়িত মনিটরও ব্যবহার করা হচ্ছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, চীন-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ধসে পড়ার কারণেই এই ভয়াবহ দুর্যোগের সূত্রপাত হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে ভারত ও চীনের বিশেষায়িত টানেল উদ্ধারকারী দলও যুক্ত হয়েছে। এভারেস্টসহ বিভিন্ন পর্বতে উদ্ধার অভিযানে অভিজ্ঞ নেপালের বিশেষায়িত পর্বত উদ্ধারকারী দলও ক্ষতিগ্রস্ত আরেকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ শুরু করছে।

দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, ১১টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৪৩১ দশমিক ১ মেগাওয়াট, যা দেশটির স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ।

এ ছাড়া নির্মাণাধীন আরও ১৫টি বিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পের সম্মিলিত পরিকল্পিত উৎপাদন সক্ষমতা ৪৭০ মেগাওয়াট।

 

Link copied!