ছবি: সংগৃহীত
চীনের স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অনারের তৈরি মানবাকৃতির রোবট ‘লাইটনিং’ ১০০ মিটার দৌড়ে ৯ দশমিক ৩২ সেকেন্ড সময় নিয়ে জ্যামাইকান স্প্রিন্ট কিংবদন্তি উসাইন বোল্টের ৯ দশমিক ৫৮ সেকেন্ডের মানব বিশ্বরেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমসের প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষামূলক দৌড়ে এই কীর্তি গড়ে রোবটটি।
২০০৯ সালে বার্লিনে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ৯ দশমিক ৫৮ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন উসাইন বোল্ট। লাইটনিংয়ের ৯ দশমিক ৩২ সেকেন্ডের ফল তাঁর রেকর্ডের চেয়ে ০ দশমিক ২৬ সেকেন্ড দ্রুত। তবে রোবটটির এই সময় মূল প্রতিযোগিতার ফল নয়; গেমস শুরুর আগে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষার সময় এটি।
পরীক্ষামূলক দৌড়ে লাইটনিংয়ের সর্বোচ্চ গতি ছিল প্রতি সেকেন্ডে ১৪ দশমিক ৫ মিটার, যা ঘণ্টায় প্রায় ৫২ কিলোমিটারের সমান। রোবটটির গতি ও ভারসাম্য বাড়াতে দৌড়ের আগে এর পায়ের দৈর্ঘ্যও পরিবর্তন করা হয়।
লাইটনিংয়ের জন্য এটি অবশ্য প্রথম বড় সাফল্য নয়। গত এপ্রিলে বেইজিংয়ে আয়োজিত ২১ কিলোমিটার হাফ ম্যারাথনে অংশ নিয়ে রোবটটি ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে প্রথম হয়েছিল। ওই সময়টি মানব হাফ ম্যারাথনের বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও দ্রুত ছিল।
হাফ ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার সময় লাইটনিংয়ের উচ্চতা ছিল ১৬৯ সেন্টিমিটার এবং পায়ের দৈর্ঘ্য ছিল ৯৫ সেন্টিমিটার। পরে স্প্রিন্টের প্রস্তুতি হিসেবে গবেষকেরা এর পায়ের দৈর্ঘ্য ১০ সেন্টিমিটার বাড়িয়ে ১ দশমিক ০৫ মিটার করেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল রোবটটির গতি ও স্থিতিশীলতা আরও বাড়ানো।
এদিকে বেইজিংয়ে শুরু হওয়া বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমস এবার দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাঁচ দিনের এই আয়োজনে দৌড়, ফুটবল, টেবিল টেনিস, ভারোত্তোলন ও দড়ি টানাটানিসহ বিভিন্ন ইভেন্টে হিউম্যানয়েড রোবট অংশ নিচ্ছে।
মূল প্রতিযোগিতার ১০০ মিটার দৌড়েও আরেকটি চীনা হিউম্যানয়েড রোবট ৯ দশমিক ৩৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে উসাইন বোল্টের ৯ দশমিক ৫৮ সেকেন্ডের মানব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। একই প্রতিযোগিতায় আরেকটি রোবট স্ট্যান্ডিং হাই জাম্পে ২ দশমিক ৮৮ মিটার লাফ দিয়ে মানব রেকর্ডও পেছনে ফেলেছে।
চীন হিউম্যানয়েড রোবোটিকসকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি খাত হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আধুনিক হার্ডওয়্যার ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির অগ্রগতিকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন, লজিস্টিকস ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এসব রোবটের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে দেশটির।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রোবটের গতি ও সক্ষমতায় দ্রুত অগ্রগতি হলেও বাস্তব জীবনে ব্যাপক ব্যবহারের পর্যায়ে এই প্রযুক্তি এখনো পুরোপুরি পৌঁছায়নি। বর্তমানে হিউম্যানয়েড রোবটের বড় অংশ গবেষণা, প্রদর্শনী ও নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষামূলক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।