আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে সব দিক বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ভারত তার নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী চলবে, বাংলাদেশও নিজের নীতি ও স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে। ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এই চুক্তিতে যুক্ত হবে কি না, সেটি সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো।’
এ সময় গুম প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন গঠনে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। আগামী রোববার সংসদ অধিবেশনে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান আইনমন্ত্রী।
বিচার বিভাগের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা ও মামলাজট কমাতে ‘ই-জুডিশিয়ারি’ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় রক্ষীবাহিনীর কর্মকাণ্ডে ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় নিহতদের পরিবারের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, আইনের দরজা সবার জন্য খোলা। গুম ও হত্যার শিকার পরিবারের সদস্যরা আইনি সহায়তা চাইলে আদালত বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।
ঝিনাইদহের ছয় লেনের মহাসড়ক নির্মাণে ধীরগতি এবং জেলার বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশা নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। নির্মাণকাজের দীর্ঘসূত্রতায় মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হবে।
ঝিনাইদহ পৌরসভার আধুনিক বহুতল সুপার মার্কেট নির্মাণ বেলা’র করা রিটের কারণে আটকে থাকা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তার বিস্তারিত জানা নেই। তবে আইনি জটিলতা দূর করতে কী করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হবে।
জেলা পর্যায়ে দুর্নীতি দমনে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার এতে সন্তুষ্ট কি না, সেটিই মূল বিষয় নয়। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদ, নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্রনাথ রায় এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপা রানী সরকার।