যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম সিএনএনের প্রেসিডেন্ট জেফ জুকার পদত্যাগ করেছেন। এই গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর ‘রোমান্টিক’ সম্পর্ক ছিল। তবে এ সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের আরেক গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, এ সম্পর্কের কথা স্বীকার করে পদত্যাগ করেন জেফ।
নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি জেফ জুকার। তিনি নয় বছর ধরে এই দায়িত্ব ছিলেন। এমন সময়ে তিনি সিএনএন ছাড়ছেন, যখন গণমাধ্যমটি সিএনএন প্লাস নামে একটি স্ট্রিমিং সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন ডিসকভারি সিএনএনের মূল প্রতিষ্ঠান ওয়ার্নার মিডিয়াকে অধিগ্রহণ করতে যাচ্ছে।
পদত্যাগের বিষয়ে ৫৬ বছর বয়সী জেফ লিখেছেন, নিউইয়র্কের সাবেক গভর্নর কুমোর ভাই ও সিএনএনের উপস্থাপক ক্রিস কুমোরের বিরুদ্ধে যখন অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছিল, তখন তাঁর রোমান্টিক সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে।
জেফ বলেন, ‘এই তদন্তের সময় এক সহকর্মীর সঙ্গে আমার সম্পর্কের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। এমন মানুষ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, যার সঙ্গে আমি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছি। আমি স্বীকার করেছি, সম্প্রতি আমাদের সম্পর্কে ধরন বদলেছে। আমার এটা প্রকাশ করা উচিত ছিল। কিন্তু আমি করিনি। আমার ভুল ছিল।’
জেফ মূলত অ্যালিসন গলস্টের কথা বলেছেন। এই নারী সিএনএনের ভাইস প্রেসিডেন্ট। জেফ পদত্যাগের পর তিনি লিখেছেন, ‘জেফ ও আমি ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা ২০ বছরের বেশি সময় ধরে একসঙ্গে কাজ করেছি। করোনাভাইরাসের এই মহামারিকালে আমাদের সম্পর্ক বদলে গেছে। আমি দুঃখিত যে আমরা আমাদের সম্পর্কের কথা প্রকাশ করিনি।’
জেফ ও অ্যালিসনের বিচ্ছেদ হয়েছে। তাঁরা আলাদা থাকেন।
জেফ শুধু সিএনএন থেকে সরে যাচ্ছেন, এমনটা নয়; সিএনএনের মূল প্রতিষ্ঠান ওয়ারনার মিডিয়ার নিউজ ও স্পোর্টস চেয়ারম্যানের পদ থেকেও সরে যাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এনবিসি টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে তুলে এনেছিলেন জেফ। বলা হয়ে থাকে, এর মধ্য দিয়েই ট্রাম্পের পরিচিতি বাড়ে এবং এ পথ ধরেই তিনি প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন।