দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনা, চালকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ৬, ২০২৬, ১১:২২ পিএম

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনা, চালকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি : সংগৃহীত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পদ্মা নদীতে বাস পড়ে যাওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নৌ-পুলিশ। দুর্ঘটনার পর নৌঘাট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শুক্রবার দিবাগত রাতে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আবুজার গিফারী বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বাসচালক, সুপারভাইজার এবং সহকারীকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর এলাকার বাসিন্দা মো. ঝন্টু আলী, কুষ্টিয়ার সুগ্রীবপুর এলাকার মো. আজমল হোসেন এবং আলামপুর এলাকার শাকিব হোসেন। পাশাপাশি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের অজ্ঞাতনামা কর্তৃপক্ষকেও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে মেহেরপুরের গাংনি থেকে ঢাকাগামী একটি বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছায়। যাত্রীদের ফেরিতে ওঠার আগে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর হঠাৎ বাসচালক বেপরোয়া গতিতে গাড়িটি চালাতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার একপর্যায়ে বাসটি নির্ধারিত ফেরিতে না উঠে ঘাট এলাকায় থাকা অন্য একটি ফেরির র‌্যাম্পে উঠে পড়ে এবং সেখানে ধাক্কা লাগিয়ে কাঠামোগত ক্ষতি করে। পরে র‌্যাম্পের শিকল ও সংযোগ ব্যবস্থা ভেঙে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

নৌ-পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার সময় বাসের সুপারভাইজার ও সহকারী লাফ দিয়ে নেমে যান। পরে চালককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী জাহাজের সহায়তায় নদী থেকে বাসটি উদ্ধার করা হয়। পরে দেখা যায়, যানটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং যাত্রীদের মালামালেরও ক্ষতি হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, ফেরির অবকাঠামো ও যাত্রীদের মালামালসহ প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিন আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নৌ-পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার করা মালামাল যাচাই-বাছাই শেষে যাত্রীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Link copied!