জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
হাসনাত আবদুল্লাহ | ছবি: সংগৃহীত
চুরি ও দুর্নীতি করার চেয়ে ভোট ভিক্ষা করাই বেশি সম্মানজনক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ।
রোববার দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড় শালঘর ইউনিয়নের সৈয়দপুর বাজারে আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রা ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের কোনো গুন্ডা-পান্ডা নেই, আমাদের পক্ষ থেকে কেউ ফোন দিয়ে আপনাদের কখনও ভয়ভীতি দেখাবে না। প্রোগ্রামে আসতে হবে, না আসলে বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসবে এমন কিছু কেউ বলবে না। আমরা এসব পথে হাঁটব না। আমরা ভালোবাসা দিয়ে আপনাদের কাছে আসব। প্রয়োজনে পায়ে ধরে ভিক্ষা চাইব। বলবো যে, ভাই আপনি আমাদেরকে একটু সহায়তা করেন। চুরি করার চাইতে, দুর্নীতি করার চাইতে, রাস্তার মাটি খাওয়ার চাইতে, ইট খাওয়ার চাইতে, ভোট ভিক্ষা করাটা বেশি সম্মানের।’
এ সময় তিনি সকলকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। হাসনাত বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে এবং মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হবে। তিনি বলেন, ‘‘আপনারা কি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চান? চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ চান? বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েরা যথাযথভাবে লেখাপড়া করে ভালো চাকরি পাক সেটা চান? স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন হোক সেটা চান? তাহলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে থাকবেন। আপনারা যদি চান তাহলে দুইবারের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না।’’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদেরকে আগে দুর্নীতিটা বন্ধ করতে হবে। আমরা দুর্নীতিকে যদি বন্ধ করতে পারি, কোনো না কোনো সময় দেশ এগুবেই। আমার এই নির্বাচন হবে দুর্নীতি বন্ধ করার নির্বাচন। এবারের নির্বাচন হবে চাঁদাবাজমুক্ত হওয়ার নির্বাচন। এবারের নির্বাচন হবে ঋণখেলাপিদের সংসদের বাইরে পাঠানোর নির্বাচন।’
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও নারীদের উদ্দেশে মাঠে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনে আপনাদের যেটা করা লাগবে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের আপনারা যারা আছেন, আন্টিরা যারা আছেন সবাই মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েন।’
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক আরও বলেন, ‘একটু আগে এক নারী আমাকে আট হাজার টাকা দিছেন। প্রত্যেক দিনই কেউ না কেউ টাকা দিচ্ছে। টাকা দিতেছে, খাবার দিতেছে, ভালোবাসা দিচ্ছে, বাড়ির দুধ নিয়ে আসতাছে, সবজি দিতেছে, কত কিছু দিচ্ছে। কারণ, ওনারা মনে করেছে এই ছেলেটা সৎ। আমরা লুকাই নাই। আমরা প্রকাশ করছি যে আমাদের হচ্ছে এটা, যে এতটুকু পারব, এতটুকু পারব না। যদি আপনারা মনে করেন এই ছেলেটা আমার ঘরের, এই ছেলেটাকে দিয়ে সম্ভব, তাইলে আপনারা আমাদের জন্য কাজ কইরেন।’
পদযাত্রা ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ অংশ নেন।