জুন ১২, ২০২৬, ১২:০১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন একটি রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে মেক্সিকো। ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামার মাধ্যমে দেশটি এককভাবে সবচেয়ে বেশি উদ্বোধনী ম্যাচ খেলার কীর্তি অর্জন করবে।
এতদিন এই রেকর্ডে ব্রাজিলের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিল মেক্সিকো। তবে এবার সবাইকে পেছনে ফেলে একাই তালিকার শীর্ষে উঠে যাচ্ছে উত্তর আমেরিকার দেশটি। যদিও বিশ্বকাপের শুরুর দিকের কয়েকটি আসরে একই সময়ে একাধিক ম্যাচ শুরু হয়েছিল, তবু টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী ম্যাচের হিসাবে মেক্সিকোর অংশগ্রহণই সবচেয়ে বেশি।
তবে এই রেকর্ডের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক হতাশার গল্পও। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে সবচেয়ে বেশি অংশ নেওয়া দল হলেও মেক্সিকো এখনো কোনো ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি।
পরিসংখ্যান বলছে, আগের সাতটি উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর সংগ্রহ মাত্র দুটি ড্র। বাকি পাঁচ ম্যাচেই হারের তিক্ততা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। এসব ম্যাচে তারা গোল করেছে মাত্র দুটি, বিপরীতে হজম করেছে ১৯টি।
শুরুর দিকের অভিজ্ঞতা ছিল আরও কঠিন। প্রথম পাঁচটি উদ্বোধনী ম্যাচেই পরাজিত হয়েছিল মেক্সিকো। সেই ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়াতে পেরেছিল মাত্র একবার, আর নিজেদের জাল থেকে বল তুলতে হয়েছিল ১৮ বার। বিশেষ করে ১৯৫০ ও ১৯৫৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কাছে যথাক্রমে ৪-০ ও ৫-০ গোলের বড় হার এখনো দেশটির বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম হতাশাজনক অধ্যায়।
অবশ্য সময়ের সঙ্গে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। ১৯৭০ বিশ্বকাপে স্বাগতিক হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছিল মেক্সিকো। এরপর ২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ১-১ গোলে সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।
এবার সেই ইতিহাস বদলানোর স্বপ্ন দেখছেন কোচ জাভিয়ের আগুইরে। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে অংশ নেওয়ার প্রায় এক শতাব্দী পর, তার নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেতে চায় মেক্সিকো।
আরেকটি কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য হলো, ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি অনেকটা ২০১০ আসরের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। কারণ বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি ম্যাচ দ্বিতীয়বারের মতো একক উদ্বোধনী ম্যাচ হিসেবে আয়োজন করা হচ্ছে। এর আগে ১৯৫০ ও ১৯৫৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিল ও মেক্সিকো উদ্বোধনী দিনে মুখোমুখি হলেও ১৯৫৪ সালের ম্যাচটি একই সময়ে শুরু হওয়া একাধিক ম্যাচের একটি ছিল। ফলে সেটিকে টুর্নামেন্টের একমাত্র উদ্বোধনী ম্যাচ হিসেবে ধরা হয় না।
সব মিলিয়ে নতুন রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মেক্সিকোর সামনে এবার বড় চ্যালেঞ্জ—উদ্বোধনী ম্যাচের দীর্ঘ জয়ের খরা কাটিয়ে ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখা।