ছবি: সংগৃহীত
ফুটবল বিশ্বকাপের আবহ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়ছে প্রিয় দলকে ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা। সেই আবহে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে যশোরের চৌগাছার বহুল পরিচিত ‘ব্রাজিল বাড়ি’, যা কয়েক বছর ধরেই ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।
চৌগাছা-কোটচাঁদপুর সড়কের ইছাপুর বটতলায় অবস্থিত তিনতলা ভবনটি দূর থেকেই নজর কাড়ে। ব্রাজিলের জাতীয় পতাকার আদলে রাঙানো এই বাড়িটি স্থানীয়দের কাছে বহুদিন ধরেই ‘ব্রাজিল বাড়ি’ নামে পরিচিত।
বাড়িটির মালিক জামির হোসেন দীর্ঘদিনের ব্রাজিল সমর্থক। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের আগে নিজের বাড়িকে ব্রাজিলের পতাকার রঙে সাজিয়েছিলেন তিনি। সময়ের সঙ্গে ভবনটির আকার যেমন বেড়েছে, তেমনি অটুট রয়েছে তার প্রিয় দলের প্রতি আবেগও।
জামির হোসেন জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি ফুটবলের ভক্ত। বিশ্বকাপ এলেই খেলার উত্তেজনায় মেতে উঠতেন। সেই ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বাড়িটিকে ব্রাজিলের রঙে সাজানো হয়েছিল, যা এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। চৌগাছা শহরের মানুষ এখন এই বাড়িটিকে ‘ব্রাজিল বাড়ি’ হিসেবেই চেনে।
আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এবারও বিশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। কয়েকজন বন্ধু ও সমর্থককে নিয়ে ব্রাজিলের পক্ষে একটি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দুই শতাধিক মোটরসাইকেল অংশ নিতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
জামিরের ভাষ্য, ২০১৮ সালে বাড়িটি রাঙাতে প্রায় ৭০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছিল। পাশাপাশি ব্রাজিল দলের জার্সিও কেনা হয়েছিল উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। সে সময়ের বেশ কিছু জার্সি এখনও সংরক্ষিত রয়েছে, যা এবারের বিশ্বকাপ আয়োজন ঘিরে ব্যবহার করা হবে।
তবে দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি খেলাধুলার সৌন্দর্য বজায় রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, মাঠের খেলায় জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু সমর্থকদের মধ্যে যেন কোনো ধরনের বিরোধ বা সংঘাত তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
এদিকে বিশ্বকাপকে ঘিরে যশোরজুড়ে ইতোমধ্যে ফুটবল উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় উড়ছে প্রিয় দলের পতাকা, চলছে নতুন পতাকা কেনাবেচা। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে উৎসবের আমেজ।
স্থানীয়দের মতে, ‘ব্রাজিল বাড়ি’ শুধু একটি ভবন নয়, বরং ফুটবলের প্রতি এক সমর্থকের দীর্ঘদিনের আবেগ ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছে। আর বিশ্বকাপ এলেই সেই বাড়ি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।