ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাসপাতালটিতে ভর্তি থাকা রোগীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এ ঘোষণা দেন।
গত ২৭ মে, ঈদের আগের দিন সকালে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ছটফট করতে করতে একে একে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলার’ প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প কোনো ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা না থাকা, পাশাপাশি বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়াই নবজাতকদের মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ।
গত ৪ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। একই দিন বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালটিকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়। নোটিসে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে তিন দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বুধবার বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নোটিসের যে জবাব দিয়েছে তা ‘সন্তোষজনক নয়’।
অন্যদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির রোববার সাংবাদিকদের জানান, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে।
তিনি দাবি করেন, পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যৌথ আলোচনার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রত্যেক পরিবারকে ইতোমধ্যে ১০ লাখ টাকা করে প্রদান করা হয়েছে।
ক্ষতিপূরণ এবং হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বুধবার বলেন, ‘এ ঘটনায় সরকার আইনজীবী নিয়োগ করে সঠিকভাবে প্রতিবেদন এবং সিদ্ধান্তের বিষয়ে সুপারিশ করবে।’