জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
স্বচ্ছতা ঘাটতির উদ্বেগ দেখিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এ কারণে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের সঙ্গে ‘সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ভিসা বিবেচনা প্রক্রিয়ায় রাখা হয়েছে সবচেয়ে কঠোর স্তর ‘এভিডেন্স লেভেল-৩’-এ।
অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম নিউজ ডটকম ডট এইউ জানায়, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল ও ভুটানকে একই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা ভিসা এইচকিউর মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে এসব দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে যাবে।
‘এভিডেন্স লেভেল-৩’ হলো অস্ট্রেলিয়ার সিম্প্লিফায়েড স্টুডেন্ট ভিসা ফ্রেমওয়ার্কের (SSVF) সবচেয়ে কঠোর ধাপ, যা সাধারণত জালিয়াতির ঝুঁকি বেশি এমন দেশগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। এই স্তরে থাকা দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের ভিসার আবেদনের সময় অতিরিক্ত ও বিস্তারিত নথিপত্র জমা দিতে হয়।
ভিসা এইচকিউ জানায়, আবেদনকারীদের অন্তত তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অর্থের উৎসের বিস্তারিত তথ্য, সত্যায়িত একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি তথ্য যাচাই, ইন্টারপোলের সঙ্গে বায়োমেট্রিক তথ্য ক্রস-ম্যাচিংসহ বাড়তি নিরাপত্তা যাচাই কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় আগত মোট বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এই চারটি দক্ষিণ এশীয় দেশের পাসপোর্টধারী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশসহ চারটি দেশকে ‘এভিডেন্স লেভেল-২’ থেকে উন্নীত করে ‘এভিডেন্স লেভেল-৩’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিভাগের সাবেক উপসচিব আবুল রিজভী বলেন, এই পরিবর্তনের ফলে ভিসা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং একই সঙ্গে প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।