জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত যুবকের নাম মো. হানিফ (২২)। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্তের শাহজাহান দ্বীপ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হানিফ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল গ্রামের বাসিন্দা এবং ফজল করিমের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, মাছ ধরার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই হানিফ গুরুতর আহত হন। এর এক দিন আগে একই সীমান্ত এলাকায় মায়ানমার দিক থেকে ছোড়া গুলিতে এক শিশু আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় স্থানীয়রা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করেন এবং নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানান।
উখিয়ায় দায়িত্বরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৬৪ বিজিবি) ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, নাফ নদীর সীমান্তবর্তী এলাকায় মাইন বিস্ফোরণের একটি ঘটনার তথ্য তারা পেয়েছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সীমান্তের কাছাকাছি কিছু এলাকায় স্থলমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। কোন কোন স্থানে মাইন রয়েছে, তা শনাক্তে কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত না করতে সতর্ক করা হচ্ছে।
মাইন বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হোয়াইক্যং সড়কে জনতা বিক্ষোভ শুরু করে। তারা সড়ক অবরোধের পাশাপাশি আগের দিন গুলিতে আহত শিশুর উন্নত চিকিৎসা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করে।
লম্বাবিল এলাকার হুমায়ূন আহমেদ বলেন, সীমান্তে একের পর এক গুলি ও মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় আমরা চরম আতঙ্কে আছি। এভাবে অনিরাপদ অবস্থায় বসবাস করা সম্ভব নয়। আমরা শান্তি ও জীবনের নিরাপত্তা চাই।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে একজন জেলে আহত হওয়ার বিষয়টি তাদের জানা গেছে। পাশাপাশি চলমান গোলাগুলির কারণে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সড়ক অবরোধ তুলে নিতে কাজ করছে।
প্রসঙ্গত, মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে তীব্র সংঘাত চলছে। রাখাইন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি, রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং মায়ানমারের সরকারি বাহিনী সংঘর্ষ অব্যাহত রাখছে। এসব সংঘর্ষের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায়।
এরই মধ্যে সীমান্তের ওপারের সংঘাতের জেরে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৫৩ জন সদস্যকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় বিজিবি আটক করেছে।